আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, বিচার বিভাগের শুদ্ধাচার নিশ্চিত করতে শুধু আর্থিক দুর্নীতির বিষয়টি বিবেচনায় নিলেই হবে না, বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। বিচারিক সিদ্ধান্তে কোনো ধরনের পক্ষপাত, রাজনৈতিক প্রভাব কিংবা বুদ্ধিবৃত্তিক অসততা থাকলে তা বিচার বিভাগের প্রতি মানুষের আস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই নির্মোহ, নিরপেক্ষ ও জনকল্যাণমুখী বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় বিচারকদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
আজ রাজধানীর তেজগাঁওয়ে একটি হোটেলে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) আয়োজিত এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) বাংলাদেশের সহযোগিতায় ‘বিচারিক কার্যক্রমে শুদ্ধাচার (Judicial Integrity)’ শীর্ষক তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, বিচারক হওয়ার মধ্যেই সততা ও নিরপেক্ষতার প্রত্যাশা নিহিত রয়েছে। একজন বিচারকের কাছে সততা কোনো বিশেষ গুণ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার বিষয় নয়; বরং এটি তাঁর পেশাগত দায়িত্ব ও মৌলিক ভিত্তি। বিচার বিভাগের প্রতি মানুষের আস্থা বজায় রাখতে বিচারকদের অবশ্যই সততা, স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, বিচার বিভাগের কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকতে পারে। তাঁদের বিরুদ্ধে সরকার এবং প্রধান বিচারপতি শূন্য সহনশীলতার নীতি অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সচেষ্ট রয়েছেন। তবে বিচারকদের সার্বিক কর্মপরিবেশ ও বাস্তবতাও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। বাংলাদেশের বিচারকরা প্রতিদিন দীর্ঘ সময় ধরে অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করছেন। তাঁদের অনেকেই মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে বিচার বিভাগে এসেছেন। তাঁদের কাজের স্বীকৃতি দেওয়া এবং বেতন-ভাতা, আবাসন ও সামাজিক মর্যাদাসহ প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করাও জরুরি।
বিচারকদের কাজের ইতিবাচক দিক তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, অনেক বিচারক সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও প্রত্যন্ত অঞ্চলে দায়িত্ব পালন করছেন। সরকারি আবাসনের পরিবর্তে তুলনামূলক কম ব্যয়ে ভাড়া বাসায় থেকে তাঁরা নিয়মিত আদালতে যাচ্ছেন এবং অপরাধীদের সাজা দিচ্ছেন। তাঁদের সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধের এসব দৃষ্টান্তও গণমাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা উচিত। বিচারকদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি বিচার বিভাগে শুদ্ধাচার ও ইতিবাচক পরিবর্তন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে।
তিনি বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং বিচারিক কাজে নির্বাহী বিভাগের হস্তক্ষেপমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সুপ্রিম কোর্ট একটি স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা এবং সাংবিধানিক কাঠামোতে প্রয়োজনীয় সংস্কারের বিষয়ে সরকার কাজ করছে। সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগেও এসব বিষয় গুরুত্ব পাবে।
বিচার বিভাগের অতীত ভূমিকা পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, সংকটকালে মানুষের সাংবিধানিক ও মৌলিক অধিকার রক্ষায় বিচার বিভাগের কার্যকর ভূমিকা থাকা অত্যন্ত জরুরি। অতীতে গুম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিভিন্ন ঘটনায় বিচার বিভাগের প্রত্যাশিত ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিচার বিভাগকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ক্ষমতার অপব্যবহার করে নাগরিকের অধিকার হরণ করতে না পারে এবং বিচারপ্রার্থী মানুষ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত না হন।
তিনি আরও বলেন, বিচার বিভাগের শুদ্ধাচার নিয়ে আলোচনা করতে হলে বুদ্ধিবৃত্তিক পক্ষপাত ও অসততার বিষয়গুলোও সামনে আনতে হবে। বিশেষ করে অতীতে যেসব বিচারিক সিদ্ধান্ত দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ও জনগণের স্বার্থকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, সেগুলোও নির্মোহভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। বিচারিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে নৈতিকতা, নিরপেক্ষতা ও জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
আইনমন্ত্রী বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বিচারকদের নিজেদেরও ঐতিহাসিক দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। বিচারকরা প্রজাতন্ত্রের সার্বভৌম ক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ প্রয়োগ করেন। একজন বিপদগ্রস্ত মানুষ প্রথমে সৃষ্টিকর্তার কাছে আশ্রয় চান, এরপর ন্যায়বিচারের আশায় বিচার বিভাগের দ্বারস্থ হন। তাই বিচারপ্রার্থীর আস্থা ও মর্যাদা রক্ষা করা বিচারকদের মৌলিক ও নৈতিক দায়িত্ব। বিচারকদের নিজেদের মর্যাদা, পেশাগত স্বাতন্ত্র্য এবং বিচার বিভাগের সম্মান সমুন্নত রাখতে হবে।
বিচারকদের উদ্দেশে আইনমন্ত্রী বলেন, বিচারকদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে অন্য কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারীর সঙ্গে নিজেদের তুলনা করে পেশাগত স্বাতন্ত্র্য ক্ষুণ্ন করা উচিত নয়। বিচারকদের হাতে অর্পিত ক্ষমতা জনগণের আস্থা ও অধিকার রক্ষার জন্য। সেই ক্ষমতা প্রয়োগের প্রতিটি ক্ষেত্রে সততা, নিরপেক্ষতা ও নৈতিকতার পরিচয় দিতে হবে। বিচার বিভাগের প্রতি মানুষের আস্থা প্রতিষ্ঠিত হলে একটি প্রত্যাশিত ও জনমুখী বিচারব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউএনডিপি বাংলাদেশের রুল অব ল, জাস্টিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস বিষয়ক সিনিয়র অ্যাডভাইজার রোমানা শোয়েগার। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।
মানুষের প্রত্যাশার পরিপন্থি কোনো কাজ করলে তিনি যত কাছের মানুষই হোন না কেন, প্রধানমন্ত্রী তার বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘আমরা কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নই। সুতরাং এটা আমাদের সবার মাথায় রাখতে হবে।’ সোমবার (১৯ অক্টোবর) ঝিনাইদহে পিটিআই-এর একাডেমি-কাম-প্রশাসনিক ভবন উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। সাম্প্রতিক সময়ে সরকারদলীয় এক প্রতিমন্ত্রীর মাদকবিরোধী অভিযান ঘিরে বিতর্ক ও পদত্যাগের ঘোষণা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে- কেউ মানুষের প্রত্যাশার পরিপন্থি কোনো কাজ করলে তিনি যত কাছের মানুষই হোন না কেন, তার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নেবেন। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী তা প্রমাণ করেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। দুর্নীতি দমন ও অর্থ পাচার রোধে আইনি কাঠামো সংস্কারের পরিকল্পনা সম্পর্কে আইনমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এবং এর অধীন নীতিমালায় বড় ধরনের কোনো ত্রুটি দেখা যায়নি। মূল সমস্যা বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায়। এ কারণে আইন বাস্তবায়ন জোরদার করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগুলো সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়েও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা যথাসময়ে জানানো হবে। সব পরিকল্পনা আগেই প্রকাশ করলে পরিকল্পনার আর কিছু থাকে না। তবে ইতিবাচক পরিবর্তনের দিকে সরকার এগিয়ে যাবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে তাদের নির্বাচনে অংশ নিতে আইনি কোনো বাধা নেই। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা বিদ্যমান আইনি অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আইনি প্রক্রিয়ায় কোনো পরিবর্তন না আসা পর্যন্ত আগের বিধানই কার্যকর থাকবে। এর আগে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ এবং এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে আইনমন্ত্রী বলেন, সার ডিলার নিয়োগের পর এ বিষয়ে কোনো সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে তার কথা হয়নি। অনিয়ম হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট বিভাগ ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান তিনি। AITV/RONY
কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভের পাটুয়ারটেক সৈকতে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির শিকার ‘টুপটুপ’ রিসোর্টটি ফায়ার সার্ভিসের অনুমতি ছাড়াই নির্মাণ করা হয়েছিল। রিসোর্টটির অগ্নিনিরাপত্তার ছাড়পত্র ও ফায়ার লাইসেন্সও ছিল না। এমন তথ্য জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ। শনিবার তিনি জানান, জুন মাসে রিসোর্টটিকে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। এরপরও সেখানে অগ্নিনিরাপত্তার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল না। পর্যটন এলাকার অনেক ইকো রিসোর্ট প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক বলেন, মেরিন ড্রাইভের টুপটুপ রিসোর্টের নিচতলায় খাবার তৈরি করা হতো। সেখান থেকেই দুর্ঘটনাবশত আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রিসোর্টটি ফায়ার সার্ভিসের সংশ্লিষ্ট কার্যালয় থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার দূরে। তিনি আরও জানান, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এ পর্যন্ত ছয়টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পর্যটন এলাকায় এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হবে বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক। স্থানীয় পর্যটন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে অনুমোদনহীন রিসোর্টগুলোর বিষয়ে আলোচনা করা হবে বলেও জানান তিনি। কক্সবাজারের পর্যটন এলাকায় রিসোর্ট নির্মাণ ও পরিচালনায় অগ্নিনিরাপত্তা বিধি এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিশ্চিত করার বিষয়টি এ ঘটনায় নতুন করে সামনে এসেছে।
বিআরটিএর নির্দেশনা অনুযায়ী, স্কুটারের সামনের নম্বর প্লেটের দৈর্ঘ্য হবে ২০০ মিলিমিটার এবং প্রস্থ ১০০ মিলিমিটার। স্কুটার ছাড়া অন্যান্য মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে দৈর্ঘ্য ২৮৫ মিলিমিটার ও প্রস্থ ৫০ মিলিমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। উভয় ধরনের নম্বর প্লেটে অক্ষর ও সংখ্যার উচ্চতা কমপক্ষে ২০ মিলিমিটার রাখতে হবে। স্কুটার ছাড়া অন্যান্য মোটরসাইকেলের নম্বর একটিমাত্র আনুভূমিক রেখায় প্রদর্শন করা যাবে। প্লেট তৈরিতে যেসব শর্ত মানতে হবে নম্বর প্লেট তৈরিতে স্টেইনলেস স্টিল অথবা অ্যালুমিনিয়াম ব্যবহার করতে হবে। এর পটভূমি হবে সাদা এবং রেজিস্ট্রেশন নম্বরের অক্ষর ও সংখ্যা কালো রঙে লিখতে হবে। পাশাপাশি বাংলা অক্ষর ও সংখ্যা ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নম্বর প্লেটে কোনো শোভাবর্ধক উপাদান বা অতিরিক্ত নকশা রাখা যাবে না। প্লেটের মাপ, রং, উপকরণ ও লেখার ধরন—সব ক্ষেত্রেই বিআরটিএর নির্ধারিত নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। বিআরটিএ জানিয়েছে, আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে মোটরসাইকেলের সামনের অংশে নম্বর প্লেট সংযোজন করে তা দৃশ্যমান রাখতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা পালন না করলে সংশ্লিষ্ট মালিকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নির্বাচন ও সাংবিধানিক পদ্ধতি অনুসরণ করে সরকার পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন ভারতের অভিনেতা ও সমাজকর্মী প্রকাশ রাজ। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক উপায়েই সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানোর চেষ্টা করা উচিত। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তরপ্রদেশ থেকে শুরু করে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন পর্যন্ত নির্বাচনী লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে এ মন্তব্য করেন প্রকাশ রাজ। তিনি বলেন, “আমরা সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরাতে চাই এবং এ দেশে গণতান্ত্রিকভাবেই তা করব।” বাংলাদেশ ও নেপালের রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে ভারতের পার্থক্য তুলে ধরে প্রকাশ রাজ বলেন, “আমরা নেপাল নই। আমরা বাংলাদেশ নই। আমাদের আম্বেদকর আছেন। আমাদের গান্ধী আছেন। আমাদের ভগৎ সিং আছেন। আমাদের সংবিধান আছে। আমাদের ভোট দেওয়ার অধিকার আছে।” প্রকাশ রাজের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের কণ্ঠরোধ করতে কেন্দ্রীয় সরকার শক্তি প্রয়োগ করছে। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে সরকারের অনীহা সরকার পরিবর্তনের দাবিকে আরও জোরালো করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, “আপনারা আমাদের এমন অবস্থায় ঠেলে দিয়েছেন, কারণ আপনারা আমাদের সঙ্গে কথা বলছেন না। আপনারা শক্তি প্রয়োগ করছেন।” শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ ও নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবি জানানোকে নৈরাজ্য সৃষ্টির প্রচেষ্টা হিসেবে দেখার বিরোধিতা করেন এই অভিনেতা। তাঁর মতে, প্রশ্ন তোলা, প্রতিবাদ করা এবং ভোটাধিকার প্রয়োগ করা নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার। প্রকাশ রাজ বলেন, “আমরা অস্ত্রধারী নই। আমাদের অস্ত্র হলো সংবিধান। আমাদের অস্ত্র হলো প্রতিবাদ করার অধিকার।” সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
১৭ অক্টোবর, শনিবার সকালে কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুনে ৭ জন নিহতের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও শোক প্রকাশ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতিতে বলেন, কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে ‘টুপটুপ রিসোর্টে’ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী সাতজনের মৃত্যু ও আরও বেশ কয়েকজনের নিখোঁজ থাকার ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক। আমি এ ঘটনায় গভীরভাবে উদ্বিগ্ন, ব্যথিত ও শোকাহত। গোলাম পরওয়ার বলেন, পর্যটন নগরী কক্সবাজারের উখিয়ার এ ঘটনায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের দ্রুত উদ্ধার এবং আহতদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। আমি মহান আল্লাহর কাছে নিহত ব্যক্তিদের রুহের মাগফিরাত ও আহতদের সুস্থতা কামনা করছি। পাশাপাশি হতাহত ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। তিনি আরও বলেন, শনিবার সকাল ৮টার দিকে দুর্ঘটনাকবলিত রিসোর্টের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা এবং সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট সব দায়িত্বশীল সংস্থাকে কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানাচ্ছি। একই সঙ্গে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রিসোর্টগুলোতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। এ জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সব রিসোর্টের অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থাসহ সামগ্রিক নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ ও তদন্ত করা প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে কোনো পর্যটক কিংবা নাগরিককে আর ক্ষয়ক্ষতির মুখোমুখি হতে না হয়।
ঢাকার অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চলমান এক মামলার নথিতে জালিয়াতি করে আসামির নাম পরিবর্তনের অভিযোগ উঠেছে এক আইনজীবীর বিরুদ্ধে। আদালত থেকে মামলার ফাইল দেখার সুযোগ নিয়ে নালিশী দরখাস্ত ও তদন্ত প্রতিবেদনে মূল আসামির নাম কেটে অন্য একজনের নাম বসিয়ে দেওয়ার ঘটনায় সেই মামলার বাদী মো. নূরে আলমকে আটক করে পুলিশে দেওয়া হয়েছে। রোববার (৮ নভেম্বর) জালিয়াতির এ ঘটনায় ঢাকার ভারপ্রাপ্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো: মাহবুবুর রহমানের আদালতের বেঞ্চ সহকারী বাদী হয়ে রাজধানীর কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ সহকারী মো. শরীফ উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, আদালতের মূল নথি এভাবে ঘষামাজা ও কাটাকাটি করে পরিবর্তন করার বিষয়টি আদালতের নজরে আনার পর তার নির্দেশেই মামলা করা হয়েছে। একইসঙ্গে আসামি নূরে আলমকে কোতোয়ালি থানা পুলিশ হেফাজতে দেওয়া হয়েছে। আদালত সূত্রে জানা যায়, ঢাকার অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারাধীন একটি মামলাটির শুনানির ধার্য তারিখে এ জালিয়াতির সূত্রপাত ঘটে। গত ২০ সেপ্টেম্বর ওই মামলার শুনানির জন্য নথিটি আদালতে উঠলে মামলার বাদী মো. নূরে আলম নিজের প্রয়োজনে দেখার জন্য বেঞ্চ সহকারীর কাছ থেকে নথিটি নেন। পরে সন্ধ্যায় নথি গোছানোর সময় বেঞ্চ সহকারী দেখতে পান, নথির মূল নালিশী দরখাস্তে গুরুতর কাটাকাটি ও জালিয়াতি করা হয়েছে। মামলার এজাহারে মো. শরীফ উদ্দিন উল্লেখ করেন, বিচারাধীন সেই মামলার নালিশী দরখাস্তে টাইপ করা ২ নম্বর আসামি জুনায়েত এর নাম-ঠিকানা পরিবর্তন করে হাতে লিখে সজিন হোসেন ওরফে বাবু, তার বাবা ও ঠিকানার নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। পরবর্তীতে নথি গভীরভাবে পর্যালোচনা করে দেখা যায়, শুধু মূল দরখাস্তই নয়; নালিশী দরখাস্তের সত্যায়িত অনুলিপি এবং এমনকি মামলার ‘তদন্ত প্রতিবেদনেও’ একই কৌশলে আসামির নাম হাতে লিখে জালিয়াতি করা হয়েছে। অথচ নতুন করে জালিয়াতির মাধ্যমে অন্তর্ভুক্ত করা সজিব হোসেন ওরফে বাবুর বিরুদ্ধে আদালত এর আগে কোনো আমল গ্রহণ করেননি। পরবর্তীতে বিষয়টি বিচারকের নজরে আনেন বেঞ্চ সহকারী। বিচারকের নির্দেশে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি), জারীকারক মো. আবুল কালাম ও অফিস সহায়ক মো. বোরহান উদ্দিনের উপস্থিতিতে বাদী মো. নূরে আলমকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে নথি জালিয়াতির বিষয়টি স্বীকার করে বাদী নূরে আলম আদালতকে জানান, আমি নথিতে কোনো কিছু লিখিনি। আমার নিয়োজিত পূর্বের আইনজীবী মো. মাহবুবুর রহমান খান এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২/৩ জন পরস্পর যোগসাজশে নথিতে আসামির নাম ও ঠিকানা পরিবর্তন করেছেন। আদালতের নথিপত্র কাটাকাটি, ঘষামাজা ও নাম পরিবর্তন করে বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রতারণা ও জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে বাদী নূরে আলমকে আটক করা হয়। পরে তাকে কোতোয়ালি থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে এজাহার দায়ের করা হয়।
রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন দক্ষিণ মানিকদীর ইসিবি চত্বর এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে নিউ গিনি প্রপার্টিজের ভেতরে হামলা, ভাঙচুর ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ১০ জন পুরুষ ও ৪ জন নারীসহ মোট ১৪ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ক্যান্টনমেন্ট থানা পুলিশ। শনিবার (৭ নভেম্বর ২০২৬) বিকাল আনুমানিক ৪টা ১০ মিনিটে এ ঘটনা ঘটে। ক্যান্টনমেন্ট থানা সূত্রে জানা যায়, দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আনুমানিক ১০০ থেকে ১৫০ জন ব্যক্তি নিউ গিনি প্রপার্টিজের ভেতরে প্রবেশ করে ভাঙচুর ও মারামারিতে জড়ায়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ক্যান্টনমেন্ট থানা পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ঘটনাস্থল থেকে ১৪ জনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে তিনজন পারস্পরিক মারামারিতে গুরুতর আহত হন। পুলিশ তাদের উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জমি কেনাবেচা সংক্রান্ত আর্থিক বিরোধের জেরে এ ঘটনার সূত্রপাত। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৭ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ঢাকার আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার দিন থাকলেও তদন্ত সংস্থা সিআইডি তা দাখিল করতে পারেনি। ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম নতুন এ তারিখ নির্ধারণ করেন। এর আগে ডিবি পুলিশ ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দেয়। তবে ওই চার্জশিটে অসন্তোষ জানিয়ে মামলার বাদী নারাজি আবেদন করলে আদালত অধিকতর তদন্তের দায়িত্ব সিআইডিকে দেন। উল্লেখ্য, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে গুলিবিদ্ধ হন ওসমান হাদি। ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।