দেশের বাজারে আবারও বেড়েছে স্বর্ণের দাম। সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের গহনার দাম ৩ হাজার ২৬৬ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এতে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা। সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল ১০টা থেকে নতুন এ দাম কার্যকর হয়েছে। স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের দাম বাড়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বাজুস। নতুন দাম অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ১০ হাজার ৯৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ১ লাখ ৮১ হাজার ২০০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৮ হাজার ১৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে স্বর্ণের দাম বাড়লেও অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম। এর আগে গত ৩০ ও ৩১ অক্টোবর দুই দফায় স্বর্ণের দাম কমানো হয়েছিল। ওই দুই দফায় ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম কমেছিল ৭ হাজার ১১৪ টাকা।
পোশাক শ্রমিকদের নতুন বেতন নির্ধারণে ছয় সদস্যের মজুরি বোর্ড ঘোষণা করেছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। রোববার (১ নভেম্বর) সচিবালয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এ ঘোষণা দেন। বোর্ডে নিরপেক্ষ সদস্য হিসেবে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের যুগ্ম মহাসচিব আসিফ আইয়ুব এবং বিজিএমইএর পরিচালক এবিএম সামছুদ্দিন। শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইন এবং বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার। ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের লাগাতার আন্দোলনের মধ্যেই এ মজুরি বোর্ড গঠন করল সরকার। আজই এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন বা গেজেট প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন শ্রমমন্ত্রী। এর আগে শনিবার মালিক, শ্রমিক ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে চার ঘণ্টার বৈঠক শেষে রোববার মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দেন তিনি। এদিকে, একই দাবিতে রোববারও রাজধানীর মিরপুর ও গাজীপুরে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন পোশাকশ্রমিকেরা।
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা এবং হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) তেলের দর ২ শতাংশের বেশি বাড়ে। এতে গত এপ্রিলের শেষের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম। বাজারসংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরান যুদ্ধ আরও তীব্র হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বিগ্ন ব্যবসায়ীরা। শুক্রবার মেয়াদ শেষ হওয়া ব্রেন্ট ক্রুডের ডিসেম্বরের ফিউচার চুক্তির দাম ব্যারেলপ্রতি ২ ডলার ৭৬ সেন্ট বা ২ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ১১৭ ডলার ৬৪ সেন্টে। লেনদেনের একপর্যায়ে দাম ১১৮ ডলার ছাড়িয়ে যায়। তুলনামূলক বেশি লেনদেন হওয়া জানুয়ারির চুক্তির দামও ২ ডলার ৬৩ সেন্ট বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৩ ডলার ৪৩ সেন্ট হয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ২ ডলার ১২ সেন্ট বা ২ দশমিক ০৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৪ ডলার ১২ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। পুরো অক্টোবর মাসে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়েছে ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ। একই সময়ে ডব্লিউটিআইয়ের দাম বেড়েছে ১৫ দশমিক ২ শতাংশ। বিওকে ফাইন্যান্সিয়ালের ট্রেডিং বিভাগের জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেনিস কিসলার বলেন, মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র বাহিনীর সম্ভাব্য সামরিক তৎপরতার দিকে নজর রাখবেন ব্যবসায়ীরা। তেলের বাজারে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকারে হামলার ঘটনা। ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, শুক্রবার একটি ছোট নৌযান থেকে লাগানো বিস্ফোরক ডিভাইসের আঘাতে প্রণালিটিতে একটি ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলার পেছনে কারা রয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। সামুদ্রিক খাতের সূত্রগুলোর দাবি, ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালিতে ছোট নৌযান থেকে জাহাজে বিস্ফোরক লাগিয়ে চালানো এটিই প্রথম সফল হামলা। উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হওয়ায় এ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এদিকে সৌদি আরবে নিরাপত্তাঝুঁকির কথা উল্লেখ করে জরুরি নয় এমন সরকারি কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের দেশটি ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস জানায়, ২৩ অক্টোবর থেকে এ নির্দেশ কার্যকর হয়েছে। বেসামরিক বিমানবন্দর ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হুতি বিদ্রোহীদের হামলার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা ও গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে নিরাপত্তাঝুঁকি অব্যাহত থাকলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ এবং দামের ওপর আরও চাপ তৈরি হতে পারে।
দেশের আর্থিক খাতের সুরক্ষা জোরদার, নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর তদারকি সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ব্যাংক খাত পুনর্গঠনে সহায়তার জন্য বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে ৪৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ নিচ্ছে বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের সহজ শর্তে ঋণ প্রদানকারী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (আইডিএ) মধ্যে ‘ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট-২’ শীর্ষক প্রকল্পের অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী এবং বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের কান্ট্রি ডিরেক্টর জ্যঁ পেসমে স্বাক্ষর করেন। প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ ৩২৮ মিলিয়ন স্পেশাল ড্রয়িং রাইটসের (এসডিআর) সমপরিমাণ ৪৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পাবে। ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে শুরু হয়ে ২০৩১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের (এফআইডি) তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। এর মূল লক্ষ্য দেশের আর্থিক খাতের সুরক্ষা জাল শক্তিশালী করা, নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর নজরদারি ও তদারকি সক্ষমতা বাড়ানো এবং ব্যাংক খাতের পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় সহায়তা দেওয়া। চুক্তি অনুযায়ী, উত্তোলিত ঋণের স্থিতির ওপর বার্ষিক ১ দশমিক ৫ শতাংশ সুদ দিতে হবে বাংলাদেশকে। পাশাপাশি অনুত্তোলিত অর্থের ওপর বার্ষিক সর্বোচ্চ শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ হারে কমিটমেন্ট ফি প্রযোজ্য হবে। তবে ইআরডির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরসহ দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশকে এ ফি থেকে অব্যাহতি দিয়ে আসছে বিশ্বব্যাংক। ঋণ পরিশোধের মেয়াদ ২৫ বছর। এর মধ্যে প্রথম পাঁচ বছর থাকবে গ্রেস পিরিয়ড বা ঋণ পরিশোধে রেয়াতি সময়। ইআরডি জানায়, বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের বৃহত্তম বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগী। অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, অবকাঠামো এবং জ্বালানি খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্থাটির অর্থায়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। নতুন এ ঋণ চুক্তির মাধ্যমে দেশের আর্থিক খাতের সংস্কার ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়াতে দুই পক্ষের সহযোগিতা আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেনের প্ল্যাটফর্ম বাইন্যান্সে সাইবার হামলায় ৬৩০ কোটি ডলার মূল্যের ডিজিটাল সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ঘটনাটিকে ক্রিপ্টোকারেন্সি শিল্পের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় হ্যাকিংয়ের ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বাইন্যান্স জানায়, ক্ষতিগ্রস্ত সম্পদের প্রায় অর্ধেক জব্দ করা সম্ভব হয়েছে। তবে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সম্পদ এখনো হ্যাকারদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। গ্রাহকদের সব ধরনের ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রাথমিক তদন্তে হামলার সঙ্গে এক প্রকৌশলীর ল্যাপটপের সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ল্যাপটপটি হ্যাক হওয়ার পর সেটি ব্যবহার করে হামলাকারীরা অনুমতি ছাড়াই অর্থ উত্তোলন করতে সক্ষম হয় বলে জানিয়েছে বাইন্যান্স।দুটি ব্লকচেইন বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান এ হামলার জন্য উত্তর কোরিয়াসংশ্লিষ্ট ‘ট্রেডারট্রেইটর’ নামের একটি হ্যাকার গোষ্ঠীকে দায়ী করেছে। তাদের দাবি, এ ঘটনা ২০২৫ সালে বাইবিট এক্সচেঞ্জে সংঘটিত ১৫০ কোটি ডলারের হ্যাকিংয়ের রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর তদন্তকারী প্রতিষ্ঠান টিআরএম ল্যাবস এক প্রতিবেদনে জানায়, বাইন্যান্সে হামলার বেশ কয়েকটি বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে উত্তর কোরিয়াসংশ্লিষ্ট আগের সাইবার হামলার মিল রয়েছে। এর মধ্যে বাইবিটের হ্যাকিংয়ের ঘটনাও রয়েছে। টিআরএম ল্যাবসের বৈশ্বিক নীতিবিষয়ক প্রধান অ্যারি রেডবোর্ড বলেন, বাইন্যান্সে হ্যাকিংয়ের ঘটনা ক্রিপ্টোকারেন্সি শিল্পের জন্য একটি ‘নজিরবিহীন মুহূর্ত’। এ ধরনের ঘটনা আগে কখনো দেখেনি এ শিল্প। তিনি আরও বলেন, হামলাকারীদের হাতে এখনো বিপুল পরিমাণ চুরি করা সম্পদ রয়েছে। এসব অর্থ শনাক্ত ও উদ্ধারের প্রচেষ্টা এখনো দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে। আরেক ক্রিপ্টো বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান চেইনঅ্যানালাইসিসও জানিয়েছে, এ হ্যাকিংয়ের সঙ্গে উত্তর কোরীয় গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তারা আত্মবিশ্বাসী। প্রতিষ্ঠানটির গবেষণাপ্রধান এরিক জার্ডিন সব ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, বিপুল পরিমাণ সম্পদ থাকার কারণে এসব প্ল্যাটফর্ম হ্যাকারদের কাছে আকর্ষণীয় লক্ষ্যবস্তু। উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে ঘটনার সম্ভাব্য যোগসূত্র নিয়ে বিবিসির প্রশ্নের সরাসরি জবাব দেয়নি বাইন্যান্স। তবে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, অপরাধীদের পরিচয় শনাক্ত এবং তাদের বিচারের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে তারা। এ ঘটনা বাইন্যান্স ডটকমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দাদের সেবা দেওয়া তুলনামূলক ছোট প্ল্যাটফর্ম বাইন্যান্স ইউএস জানিয়েছে, তাদের কার্যক্রম এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। বাইন্যান্সের সহপ্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ই হে একাধিক পোস্টে সম্পদ জব্দে সহযোগিতার জন্য বিভিন্ন ক্রিপ্টোকারেন্সি ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের প্রথম অগ্রাধিকার। পরিবেশ নিরাপদ বলে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত অর্থ উত্তোলন বন্ধ রাখা হয়েছে। এদিকে, ক্রিপ্টো প্ল্যাটফর্ম টেথার ও সার্কেল জানিয়েছে, বাইন্যান্সে সম্ভাব্য হ্যাকিংয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মোট প্রায় ২৪০ কোটি ডলারের সম্পদ জব্দ করেছে তারা। সার্কেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জেরেমি অ্যালেয়ার বলেন, তাঁর প্রতিষ্ঠান এ ঘটনা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৮০ কোটির বেশি ডলারের সম্পদ জব্দ করেছে। সার্কেল বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মার্কিন ডলারভিত্তিক ক্রিপ্টোকারেন্সি ইউএসডিসির ইস্যুকারী ও সহ-উদ্যোক্তা। অন্যদিকে, টেথারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পাওলো আরদোইনো জানান, বাইন্যান্সে সম্ভাব্য হ্যাকিংয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ১৬০ কোটি ডলারের সম্পদ জব্দ করেছে তাঁর প্রতিষ্ঠান। তিনি বলেন, শিল্প খাত ও অংশীদারদের সুরক্ষা দেওয়া তাদের প্রধান অগ্রাধিকার। টেথার ইউএসডিটি নামের ক্রিপ্টোকারেন্সি ইস্যু করে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ক্রিপ্টো প্রতিষ্ঠান ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফিন্যান্সিয়াল জানিয়েছে, চুরি হওয়া অর্থ জব্দ করতে তারা অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করেছে। এ ঘটনায় নিজেদের কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি বলে জানিয়েছে ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ কয়েনবেস। তবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে প্রতিষ্ঠানটি।
জাপানভিত্তিক প্রযুক্তি ও প্ল্যাটফর্ম প্রকৌশল প্রতিষ্ঠান উইক করপোরেশন (উইক) এবং গ্রামীণ গ্রুপ বাংলাদেশে করপোরেট বিজ্ঞাপন, প্রয়োজনীয় সেবা ও অর্থনৈতিক সেবার মধ্যে সংযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে যৌথ উদ্যেগে ‘গ্রামীণ-উইক’ নামে একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছে। গতকাল বুধবার টোকিওতে অনুষ্ঠিত জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরামে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন (জেট্রো) এবং জাপান-বাংলাদেশ কমিটি ফর কমার্শিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন যৌথভাবে এ ফোরামের আয়োজন করে। এতে জাপানে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস সহযোগিতা করেছে। ২০২৬ সালের জুনে উইক ও গ্রামীণ গ্রুপের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) ধারাবাহিকতায় যৌথ উদ্যোগটির পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হয়েছে। নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস এবং ইয়োশিমোতো কোজিওর সাবেক চেয়ারম্যান হিরোশি ওসাকি প্রতিষ্ঠানটির উপদেষ্টা পর্ষদে যুক্ত হয়েছেন। পর্ষদ গঠনের মাধ্যমে যৌথ উদ্যোগটি এখন পূর্ণাঙ্গ সেবা উন্নয়ন এবং স্থানীয় কার্যক্রম প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে। ২০২৭ সালের মধ্যে ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরুর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গ্রামীণ-উইক একটি সামাজিক ব্যবসা হিসেবে পরিচালিত হবে। ডিজিটাল প্রযুক্তি ও ‘পজিটিভ ইমপ্যাক্ট অ্যাডভার্টাইজমেন্ট’-এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি করপোরেট বিজ্ঞাপন কার্যক্রমের সঙ্গে মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং সামাজিক সমস্যা সমাধানের উদ্যোগকে যুক্ত করবে। বাংলাদেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্যান্য সামাজিক সেবা খাতে বড় বড় প্রতিষ্ঠান, সরকারি সংস্থা ও সংগঠনের সঙ্গে সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা চলছে। বিস্তৃত অংশীদারত্বের মাধ্যমে ব্যবসায়িক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে যৌথ উদ্যোগটির। গ্রামীণ-উইক নিজস্ব স্মার্টফোন অ্যাপের মাধ্যমে পজিটিভ ইমপ্যাক্ট অ্যাডভার্টাইজমেন্ট প্রচার করবে। বিজ্ঞাপন দেখার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা পয়েন্ট অর্জন করবেন, যা কোম্পানিগুলোর বিজ্ঞাপন ব্যয়ের একটি অংশ থেকে প্রদান করা হবে। অর্জিত এসব পয়েন্ট ব্যবহার করে ব্যবহারকারীরা স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসহ দৈনন্দিন বিভিন্ন পণ্য ও সেবা পাওয়ার সুযোগ বাড়াতে পারবেন। অ্যাপটিতে বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ ও চাকরির সুযোগসংক্রান্ত তথ্য প্রদানের ব্যবস্থাও চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। চাকরিপ্রত্যাশীদের জনশক্তি প্রেরণকারী সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত করার মাধ্যমে এসব সুবিধা বাংলাদেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা অর্জনে সহায়তা করবে। নতুন প্রশাসনের নীতিগত অগ্রাধিকার এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর গুরুত্বারোপ করা উন্নয়ন চ্যালেঞ্জগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গ্রামীণ-উইক পাঁচটি ক্ষেত্রকে অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এগুলো হলো: যুব কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা সৃষ্টি, নারীর অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ ও ক্ষমতায়ন, দারিদ্র্য হ্রাস ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ মোকাবিলা। উইক করপোরেশন জাপানের একটি সফটওয়্যার ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, যা এন্টারপ্রাইজ প্ল্যাটফর্ম এবং ডিজিটাল সিস্টেম তৈরি করে।
সাভার, বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর): প্রাণিসম্পদ খাতের টিকার চাহিদা সম্পূর্ণভাবে দেশীয় উৎপাদনের মাধ্যমে পূরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেছেন, প্রাণিসম্পদের টিকার শতভাগ উৎপাদন দেশে সম্ভব হলে অর্থ সাশ্রয়ের পাশাপাশি আমদানিনির্ভরতা কমবে। এ লক্ষ্য অর্জনে বিজ্ঞানী ও গবেষকদের কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকালে সাভারে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএলআরআই) সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় এ খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়, যা পরবর্তী সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলেও গুরুত্ব পায়। দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করা এবং মানুষের প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের বিকল্প নেই। তাই এ খাতের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে উৎপাদন বৃদ্ধি ও উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বলেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে বর্তমান সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এ খাতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি গবেষণালব্ধ ফলাফল উৎপাদন ও মাঠপর্যায়ে কাজে লাগাতে হবে। বিএলআরআইয়ের বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশের প্রাণিসম্পদ খাতকে আরও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এ জন্য প্রত্যেককে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে এবং গবেষণার বাস্তব প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের মানুষের প্রত্যাশা হলো, রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান নিয়ম ও আইন মেনে পরিচালিত হবে এবং প্রত্যেকে নিজের অধিকার ভোগ করতে পারবেন। এ প্রত্যাশা পূরণে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। দেশের উন্নয়নে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে অবদান রাখতে হবে। তিনি বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ চেতনাকে ধারণ করে সবাইকে দেশের স্বার্থে কাজ করতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে গবেষণা, উদ্ভাবন এবং প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধিতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের চাহিদা পূরণের পর প্রাণিসম্পদজাত পণ্যের রপ্তানি বাড়ানো সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। ইতিমধ্যে রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবে নাইজেরিয়ায় হ্যাচিং ডিম রপ্তানি করা হয়েছে। খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রাণী ও মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ‘ওয়ান হেলথ’ ধারণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল-আওয়াল বলেন, দেশের মানুষের পুষ্টিচাহিদা পূরণ, প্রাণিসম্পদ খাতের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আমদানিনির্ভরতা কমাতে দীর্ঘমেয়াদি ও বাস্তবসম্মত গবেষণা প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে জাতীয় অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। কৃষিজমির অপচয় না করে বিকল্প জমি ও সম্পদ কাজে লাগিয়ে প্রাণিসম্পদ উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। বিএলআরআইয়ের মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুকের সভাপতিত্বে সভায় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খানসহ বিএলআরআইয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মতবিনিময় সভা শেষে প্রতিমন্ত্রী বিএলআরআইয়ের ক্যাটল গবেষণা ও ভেড়া গবেষণা খামার এবং সাভারে অবস্থিত কেন্দ্রীয় গো-প্রজনন ও দুগ্ধ খামার পরিদর্শন করেন।
দেশের বাজারে আবারও কমেছে স্বর্ণের দাম। গত রোববার প্রতি ভরিতে ৩ হাজার ৩২৪ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা। ভ্যাটসহ নির্ধারিত এ দাম ওই দিন সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে, যা আজ বুধবারও বহাল রয়েছে। স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের দাম কমে যাওয়ায় নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে।
মানুষের প্রত্যাশার পরিপন্থি কোনো কাজ করলে তিনি যত কাছের মানুষই হোন না কেন, প্রধানমন্ত্রী তার বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘আমরা কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নই। সুতরাং এটা আমাদের সবার মাথায় রাখতে হবে।’ সোমবার (১৯ অক্টোবর) ঝিনাইদহে পিটিআই-এর একাডেমি-কাম-প্রশাসনিক ভবন উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। সাম্প্রতিক সময়ে সরকারদলীয় এক প্রতিমন্ত্রীর মাদকবিরোধী অভিযান ঘিরে বিতর্ক ও পদত্যাগের ঘোষণা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে- কেউ মানুষের প্রত্যাশার পরিপন্থি কোনো কাজ করলে তিনি যত কাছের মানুষই হোন না কেন, তার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নেবেন। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী তা প্রমাণ করেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। দুর্নীতি দমন ও অর্থ পাচার রোধে আইনি কাঠামো সংস্কারের পরিকল্পনা সম্পর্কে আইনমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এবং এর অধীন নীতিমালায় বড় ধরনের কোনো ত্রুটি দেখা যায়নি। মূল সমস্যা বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায়। এ কারণে আইন বাস্তবায়ন জোরদার করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগুলো সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়েও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা যথাসময়ে জানানো হবে। সব পরিকল্পনা আগেই প্রকাশ করলে পরিকল্পনার আর কিছু থাকে না। তবে ইতিবাচক পরিবর্তনের দিকে সরকার এগিয়ে যাবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে তাদের নির্বাচনে অংশ নিতে আইনি কোনো বাধা নেই। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা বিদ্যমান আইনি অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আইনি প্রক্রিয়ায় কোনো পরিবর্তন না আসা পর্যন্ত আগের বিধানই কার্যকর থাকবে। এর আগে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ এবং এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে আইনমন্ত্রী বলেন, সার ডিলার নিয়োগের পর এ বিষয়ে কোনো সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে তার কথা হয়নি। অনিয়ম হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট বিভাগ ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান তিনি। AITV/RONY
কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভের পাটুয়ারটেক সৈকতে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির শিকার ‘টুপটুপ’ রিসোর্টটি ফায়ার সার্ভিসের অনুমতি ছাড়াই নির্মাণ করা হয়েছিল। রিসোর্টটির অগ্নিনিরাপত্তার ছাড়পত্র ও ফায়ার লাইসেন্সও ছিল না। এমন তথ্য জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ। শনিবার তিনি জানান, জুন মাসে রিসোর্টটিকে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। এরপরও সেখানে অগ্নিনিরাপত্তার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল না। পর্যটন এলাকার অনেক ইকো রিসোর্ট প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক বলেন, মেরিন ড্রাইভের টুপটুপ রিসোর্টের নিচতলায় খাবার তৈরি করা হতো। সেখান থেকেই দুর্ঘটনাবশত আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রিসোর্টটি ফায়ার সার্ভিসের সংশ্লিষ্ট কার্যালয় থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার দূরে। তিনি আরও জানান, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এ পর্যন্ত ছয়টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পর্যটন এলাকায় এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হবে বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক। স্থানীয় পর্যটন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে অনুমোদনহীন রিসোর্টগুলোর বিষয়ে আলোচনা করা হবে বলেও জানান তিনি। কক্সবাজারের পর্যটন এলাকায় রিসোর্ট নির্মাণ ও পরিচালনায় অগ্নিনিরাপত্তা বিধি এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিশ্চিত করার বিষয়টি এ ঘটনায় নতুন করে সামনে এসেছে।
বিআরটিএর নির্দেশনা অনুযায়ী, স্কুটারের সামনের নম্বর প্লেটের দৈর্ঘ্য হবে ২০০ মিলিমিটার এবং প্রস্থ ১০০ মিলিমিটার। স্কুটার ছাড়া অন্যান্য মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে দৈর্ঘ্য ২৮৫ মিলিমিটার ও প্রস্থ ৫০ মিলিমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। উভয় ধরনের নম্বর প্লেটে অক্ষর ও সংখ্যার উচ্চতা কমপক্ষে ২০ মিলিমিটার রাখতে হবে। স্কুটার ছাড়া অন্যান্য মোটরসাইকেলের নম্বর একটিমাত্র আনুভূমিক রেখায় প্রদর্শন করা যাবে। প্লেট তৈরিতে যেসব শর্ত মানতে হবে নম্বর প্লেট তৈরিতে স্টেইনলেস স্টিল অথবা অ্যালুমিনিয়াম ব্যবহার করতে হবে। এর পটভূমি হবে সাদা এবং রেজিস্ট্রেশন নম্বরের অক্ষর ও সংখ্যা কালো রঙে লিখতে হবে। পাশাপাশি বাংলা অক্ষর ও সংখ্যা ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নম্বর প্লেটে কোনো শোভাবর্ধক উপাদান বা অতিরিক্ত নকশা রাখা যাবে না। প্লেটের মাপ, রং, উপকরণ ও লেখার ধরন—সব ক্ষেত্রেই বিআরটিএর নির্ধারিত নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। বিআরটিএ জানিয়েছে, আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে মোটরসাইকেলের সামনের অংশে নম্বর প্লেট সংযোজন করে তা দৃশ্যমান রাখতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা পালন না করলে সংশ্লিষ্ট মালিকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নির্বাচন ও সাংবিধানিক পদ্ধতি অনুসরণ করে সরকার পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন ভারতের অভিনেতা ও সমাজকর্মী প্রকাশ রাজ। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক উপায়েই সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানোর চেষ্টা করা উচিত। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তরপ্রদেশ থেকে শুরু করে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন পর্যন্ত নির্বাচনী লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে এ মন্তব্য করেন প্রকাশ রাজ। তিনি বলেন, “আমরা সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরাতে চাই এবং এ দেশে গণতান্ত্রিকভাবেই তা করব।” বাংলাদেশ ও নেপালের রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে ভারতের পার্থক্য তুলে ধরে প্রকাশ রাজ বলেন, “আমরা নেপাল নই। আমরা বাংলাদেশ নই। আমাদের আম্বেদকর আছেন। আমাদের গান্ধী আছেন। আমাদের ভগৎ সিং আছেন। আমাদের সংবিধান আছে। আমাদের ভোট দেওয়ার অধিকার আছে।” প্রকাশ রাজের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের কণ্ঠরোধ করতে কেন্দ্রীয় সরকার শক্তি প্রয়োগ করছে। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে সরকারের অনীহা সরকার পরিবর্তনের দাবিকে আরও জোরালো করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, “আপনারা আমাদের এমন অবস্থায় ঠেলে দিয়েছেন, কারণ আপনারা আমাদের সঙ্গে কথা বলছেন না। আপনারা শক্তি প্রয়োগ করছেন।” শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ ও নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবি জানানোকে নৈরাজ্য সৃষ্টির প্রচেষ্টা হিসেবে দেখার বিরোধিতা করেন এই অভিনেতা। তাঁর মতে, প্রশ্ন তোলা, প্রতিবাদ করা এবং ভোটাধিকার প্রয়োগ করা নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার। প্রকাশ রাজ বলেন, “আমরা অস্ত্রধারী নই। আমাদের অস্ত্র হলো সংবিধান। আমাদের অস্ত্র হলো প্রতিবাদ করার অধিকার।” সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
ফ্লাইটের সময়সূচি, নতুন সিদ্ধান্ত ও টিকিটসংক্রান্ত তথ্য জানতে যাত্রীদের নিকটস্থ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিক্রয়কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। এদিকে, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তথ্য অনুযায়ী, শনিবার পর্যন্ত সৌদিগামী দেশি-বিদেশি বিভিন্ন এয়ারলাইনসের মোট ১১৪টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ১৭ হাজার ৭০১ জন যাত্রী। বাতিল হওয়া সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১৮টি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ১২টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি এবং রিয়াদ এয়ারওয়েজের ১০টি রয়েছে। এ ছাড়া ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগোর ২২টি, এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, সালাম এয়ারের ৭টি, ফ্লাই দুবাইয়ের ৬টি, এয়ার ইন্ডিয়ার ৫টি এবং ইজিপ্ট এয়ারের একটি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। বেবিচকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মুহাম্মাদ কাউছার মাহমুদ জানান, সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে হামলার পরিপ্রেক্ষিতে আরোপিত বিধিনিষেধের কারণে ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে। বাতিল হওয়া ১১৪টি ফ্লাইটের মধ্যে ৫০টি সরাসরি এবং ৬৪টি ট্রানজিট ফ্লাইট।