টানা কয়েক দিনের সহিংসতা ও নৈরাজ্যে অস্থির হয়ে ওঠে দেশের পোশাকশিল্পাঞ্চল। এসব ঘটনার পেছনে পতিত ফ্যাসিবাদী শক্তির ইন্ধন রয়েছে বলে অভিযোগ করে আসছিল সরকার ও বিরোধী দল। পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন কারখানার মালিক ও শ্রমিকরাও। তবে আন্দোলনে প্রকৃত শ্রমিকদের অংশগ্রহণ নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।
আন্দোলনের বিষয়ে কয়েকজন পোশাকশ্রমিক জানান, তাঁদের কারখানার কোনো শ্রমিক এ আন্দোলনে অংশ নেননি। তাঁদের দাবি, আন্দোলনকারীরা বাইরের লোক। তাঁদের ভাষায়, কারখানার ক্ষতি হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন সেখানে কর্মরত শ্রমিকরাই। বাইরের কোনো পক্ষ থেকে হামলা বা উসকানি না এলে কারখানার ভেতরে তাঁদের কোনো সমস্যা নেই। তবে পরিস্থিতি নিয়ে তাঁদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক কাজ করছিল।
স্টাইলিশ গার্মেন্টসের চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন চৌধুরী বলেন, নতুন করে চাপ সৃষ্টি হলে আরও প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যেতে পারে। গত দুই বছরে এমনিতেই অনেক কারখানা বন্ধ হয়েছে। এতে বহু শ্রমিক বেকার হয়েছেন, পাশাপাশি আশপাশের দোকানপাটও বন্ধ হয়ে গেছে। তাঁর মতে, পোশাকশিল্প শুধু মালিকদের বিষয় নয়; এর সঙ্গে শ্রমিক ও স্থানীয় মানুষের জীবিকাও জড়িত।
এদিকে, পোশাকশিল্পাঞ্চলের অস্থিরতার নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে তদন্তে নামে গোয়েন্দা সংস্থা ও স্থানীয় প্রশাসন। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে পাওয়া তথ্যে শতাধিক কারখানার মালিকানা ও সংশ্লিষ্টতা নিয়ে অনুসন্ধানের কথা জানা গেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও নেতাদের সংশ্লিষ্টতার তথ্যও উঠে এসেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
তালিকায় সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের সঙ্গে রেনেসা গ্রুপের একাধিক প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির সঙ্গে সেপাল গ্রুপের চারটি কারখানার নিয়ন্ত্রণের তথ্য উঠে এসেছে। সাবেক সংসদ সদস্য ফয়জুর রহমান বাদলের সঙ্গে তুষকা গ্রুপ এবং আওয়ামী লীগের সাবেক শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমানের সঙ্গে স্টারলিং গ্রুপের সংশ্লিষ্টতার কথাও রয়েছে তালিকায়। এ ছাড়া ইসলাম গ্রুপের মালিক ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলাম এবং বেক্সিমকো গ্রুপের মালিক সালমান এফ রহমানের নামও এসেছে।
পুলিশের দাবি, শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে দেশকে অস্থিতিশীল করার পরিকল্পনা ছিল একটি পক্ষের।
গাজীপুরের পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন স্টার নিউজকে বলেন, বিভিন্ন নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্যদের শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিষিদ্ধ সংগঠনের একাধিক নেতৃস্থানীয় সদস্যও রয়েছেন। বিদেশিদের কাছে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পকে বিপদগ্রস্ত ও বিশৃঙ্খল খাত হিসেবে উপস্থাপনের উদ্দেশ্যে তাঁরা আন্দোলনকে ব্যবহার করেছেন বলে পুলিশের ধারণা।
অন্যদিকে, পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা এ আন্দোলনে জড়িত নন বলে দাবি করে উসকানিদাতাদের শনাক্তে আরও উচ্চতর তদন্তের কথা জানিয়েছেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক নুরুল করিম ভূঁইয়া।
তিনি বলেন, কারখানার মালিকদের বিরুদ্ধে এ ধরনের কোনো ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে বিভিন্ন সংস্থাকে কাজে লাগানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও অন্যান্য সংস্থা কাজ করছে।
এদিকে, গঠিত মজুরি বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী জানুয়ারি থেকে নতুন কাঠামোয় বেতন পাওয়ার কথা রয়েছে পোশাকশ্রমিকদের। শিল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ও শিল্পের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এ খাতে স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।
মানুষের প্রত্যাশার পরিপন্থি কোনো কাজ করলে তিনি যত কাছের মানুষই হোন না কেন, প্রধানমন্ত্রী তার বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘আমরা কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নই। সুতরাং এটা আমাদের সবার মাথায় রাখতে হবে।’ সোমবার (১৯ অক্টোবর) ঝিনাইদহে পিটিআই-এর একাডেমি-কাম-প্রশাসনিক ভবন উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। সাম্প্রতিক সময়ে সরকারদলীয় এক প্রতিমন্ত্রীর মাদকবিরোধী অভিযান ঘিরে বিতর্ক ও পদত্যাগের ঘোষণা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে- কেউ মানুষের প্রত্যাশার পরিপন্থি কোনো কাজ করলে তিনি যত কাছের মানুষই হোন না কেন, তার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নেবেন। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী তা প্রমাণ করেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। দুর্নীতি দমন ও অর্থ পাচার রোধে আইনি কাঠামো সংস্কারের পরিকল্পনা সম্পর্কে আইনমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এবং এর অধীন নীতিমালায় বড় ধরনের কোনো ত্রুটি দেখা যায়নি। মূল সমস্যা বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায়। এ কারণে আইন বাস্তবায়ন জোরদার করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগুলো সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়েও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা যথাসময়ে জানানো হবে। সব পরিকল্পনা আগেই প্রকাশ করলে পরিকল্পনার আর কিছু থাকে না। তবে ইতিবাচক পরিবর্তনের দিকে সরকার এগিয়ে যাবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে তাদের নির্বাচনে অংশ নিতে আইনি কোনো বাধা নেই। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা বিদ্যমান আইনি অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আইনি প্রক্রিয়ায় কোনো পরিবর্তন না আসা পর্যন্ত আগের বিধানই কার্যকর থাকবে। এর আগে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ এবং এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে আইনমন্ত্রী বলেন, সার ডিলার নিয়োগের পর এ বিষয়ে কোনো সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে তার কথা হয়নি। অনিয়ম হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট বিভাগ ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান তিনি। AITV/RONY
কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভের পাটুয়ারটেক সৈকতে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির শিকার ‘টুপটুপ’ রিসোর্টটি ফায়ার সার্ভিসের অনুমতি ছাড়াই নির্মাণ করা হয়েছিল। রিসোর্টটির অগ্নিনিরাপত্তার ছাড়পত্র ও ফায়ার লাইসেন্সও ছিল না। এমন তথ্য জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ। শনিবার তিনি জানান, জুন মাসে রিসোর্টটিকে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। এরপরও সেখানে অগ্নিনিরাপত্তার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল না। পর্যটন এলাকার অনেক ইকো রিসোর্ট প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক বলেন, মেরিন ড্রাইভের টুপটুপ রিসোর্টের নিচতলায় খাবার তৈরি করা হতো। সেখান থেকেই দুর্ঘটনাবশত আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রিসোর্টটি ফায়ার সার্ভিসের সংশ্লিষ্ট কার্যালয় থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার দূরে। তিনি আরও জানান, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এ পর্যন্ত ছয়টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পর্যটন এলাকায় এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হবে বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক। স্থানীয় পর্যটন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে অনুমোদনহীন রিসোর্টগুলোর বিষয়ে আলোচনা করা হবে বলেও জানান তিনি। কক্সবাজারের পর্যটন এলাকায় রিসোর্ট নির্মাণ ও পরিচালনায় অগ্নিনিরাপত্তা বিধি এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিশ্চিত করার বিষয়টি এ ঘটনায় নতুন করে সামনে এসেছে।
বিআরটিএর নির্দেশনা অনুযায়ী, স্কুটারের সামনের নম্বর প্লেটের দৈর্ঘ্য হবে ২০০ মিলিমিটার এবং প্রস্থ ১০০ মিলিমিটার। স্কুটার ছাড়া অন্যান্য মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে দৈর্ঘ্য ২৮৫ মিলিমিটার ও প্রস্থ ৫০ মিলিমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। উভয় ধরনের নম্বর প্লেটে অক্ষর ও সংখ্যার উচ্চতা কমপক্ষে ২০ মিলিমিটার রাখতে হবে। স্কুটার ছাড়া অন্যান্য মোটরসাইকেলের নম্বর একটিমাত্র আনুভূমিক রেখায় প্রদর্শন করা যাবে। প্লেট তৈরিতে যেসব শর্ত মানতে হবে নম্বর প্লেট তৈরিতে স্টেইনলেস স্টিল অথবা অ্যালুমিনিয়াম ব্যবহার করতে হবে। এর পটভূমি হবে সাদা এবং রেজিস্ট্রেশন নম্বরের অক্ষর ও সংখ্যা কালো রঙে লিখতে হবে। পাশাপাশি বাংলা অক্ষর ও সংখ্যা ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নম্বর প্লেটে কোনো শোভাবর্ধক উপাদান বা অতিরিক্ত নকশা রাখা যাবে না। প্লেটের মাপ, রং, উপকরণ ও লেখার ধরন—সব ক্ষেত্রেই বিআরটিএর নির্ধারিত নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। বিআরটিএ জানিয়েছে, আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে মোটরসাইকেলের সামনের অংশে নম্বর প্লেট সংযোজন করে তা দৃশ্যমান রাখতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা পালন না করলে সংশ্লিষ্ট মালিকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নির্বাচন ও সাংবিধানিক পদ্ধতি অনুসরণ করে সরকার পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন ভারতের অভিনেতা ও সমাজকর্মী প্রকাশ রাজ। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক উপায়েই সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানোর চেষ্টা করা উচিত। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তরপ্রদেশ থেকে শুরু করে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন পর্যন্ত নির্বাচনী লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে এ মন্তব্য করেন প্রকাশ রাজ। তিনি বলেন, “আমরা সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরাতে চাই এবং এ দেশে গণতান্ত্রিকভাবেই তা করব।” বাংলাদেশ ও নেপালের রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে ভারতের পার্থক্য তুলে ধরে প্রকাশ রাজ বলেন, “আমরা নেপাল নই। আমরা বাংলাদেশ নই। আমাদের আম্বেদকর আছেন। আমাদের গান্ধী আছেন। আমাদের ভগৎ সিং আছেন। আমাদের সংবিধান আছে। আমাদের ভোট দেওয়ার অধিকার আছে।” প্রকাশ রাজের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের কণ্ঠরোধ করতে কেন্দ্রীয় সরকার শক্তি প্রয়োগ করছে। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে সরকারের অনীহা সরকার পরিবর্তনের দাবিকে আরও জোরালো করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, “আপনারা আমাদের এমন অবস্থায় ঠেলে দিয়েছেন, কারণ আপনারা আমাদের সঙ্গে কথা বলছেন না। আপনারা শক্তি প্রয়োগ করছেন।” শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ ও নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবি জানানোকে নৈরাজ্য সৃষ্টির প্রচেষ্টা হিসেবে দেখার বিরোধিতা করেন এই অভিনেতা। তাঁর মতে, প্রশ্ন তোলা, প্রতিবাদ করা এবং ভোটাধিকার প্রয়োগ করা নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার। প্রকাশ রাজ বলেন, “আমরা অস্ত্রধারী নই। আমাদের অস্ত্র হলো সংবিধান। আমাদের অস্ত্র হলো প্রতিবাদ করার অধিকার।” সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
১৭ অক্টোবর, শনিবার সকালে কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুনে ৭ জন নিহতের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও শোক প্রকাশ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতিতে বলেন, কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে ‘টুপটুপ রিসোর্টে’ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী সাতজনের মৃত্যু ও আরও বেশ কয়েকজনের নিখোঁজ থাকার ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক। আমি এ ঘটনায় গভীরভাবে উদ্বিগ্ন, ব্যথিত ও শোকাহত। গোলাম পরওয়ার বলেন, পর্যটন নগরী কক্সবাজারের উখিয়ার এ ঘটনায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের দ্রুত উদ্ধার এবং আহতদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। আমি মহান আল্লাহর কাছে নিহত ব্যক্তিদের রুহের মাগফিরাত ও আহতদের সুস্থতা কামনা করছি। পাশাপাশি হতাহত ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। তিনি আরও বলেন, শনিবার সকাল ৮টার দিকে দুর্ঘটনাকবলিত রিসোর্টের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা এবং সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট সব দায়িত্বশীল সংস্থাকে কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানাচ্ছি। একই সঙ্গে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রিসোর্টগুলোতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। এ জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সব রিসোর্টের অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থাসহ সামগ্রিক নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ ও তদন্ত করা প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে কোনো পর্যটক কিংবা নাগরিককে আর ক্ষয়ক্ষতির মুখোমুখি হতে না হয়।
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটির নেতারা। রোববার (৮ নভেম্বর) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক মুহম্মদ মুনির হোসেন স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সাক্ষাতে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন ও সদস্যসচিব এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন উপস্থিত ছিলেন। এর আগে গত ১ নভেম্বর রাতে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা করে দলটি। এতে আহ্বায়ক করা হয় শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনকে এবং সদস্যসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয় ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনকে। বিএনপির বিজ্ঞপ্তিতে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন এর আগে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি এবং ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সদস্যসচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ঢাকা-১৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। অন্যদিকে, এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন সদ্য বিলুপ্ত ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ৭ নভেম্বরের মধ্য দিয়ে জাতীয়তাবাদের ভিত্তি রচিত হয়েছিল। জিয়াউর রহমান কারাগারে থেকেও নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তাঁর নেতৃত্বের কারণেই জনগণ তাঁকে মুক্ত করে ক্ষমতায় এনেছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ সময় একটি রাজনৈতিক দলকে ইঙ্গিত করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, চেতনা বিক্রি করতে করতে একটি দল ভারতে পালিয়েছে। একইভাবে একটি নবীন রাজনৈতিক দল ২০২৪ সালের আগস্টের ঘটনাকে নিজেদের কৃতিত্ব হিসেবে দাবি করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, আঞ্চলিক প্রভুরা বুঝতে পেরেছে, জিয়াউর রহমানের আদর্শ পুনরুজ্জীবিত হয়েছে এবং তাদের সেবাদাসরা পতিত হয়েছে। আলোচনা সভায় সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব না করে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে সিভিল সার্ভিসের কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের নতুন কমিটি গঠন নিয়ে সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে চলছে নানা আলোচনা। সম্ভাব্য নেতৃত্বে কারা আসছেন, তা নিয়ে চলছে জল্পনা-কল্পনা। এরই মধ্যে নতুন কমিটির নেতৃত্বের আলোচনায় উঠে এসেছে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আমিনুল ইসলামের নাম। ছাত্রদল থেকে যুবদলের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা এবং আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকার কারণে তাঁকে ঘিরে তৈরি হয়েছে আগ্রহ। আমিনুল ইসলামের রাজনৈতিক পথচলা শুরু ছাত্রদলের রাজনীতির মধ্য দিয়ে। ২০০৩ সালে ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন তিনি। পরবর্তী সময়ে একই প্রতিষ্ঠানের আহ্বায়ক ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৫ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন তিনি। এরপর কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে ২০১৬ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পান। তবে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় শুধু পদ-পদবিতে সীমাবদ্ধ নয়। আন্দোলন-সংগ্রামের মাঠেও সক্রিয় ভূমিকা ছিল তাঁর। বিএনপির বিগত সরকারবিরোধী আন্দোলনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে রাজপথে ছিলেন আমিনুল ইসলাম। হরতাল, অবরোধসহ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন তিনি। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় হামলা-মামলা, পুলিশি বাধা ও গ্রেপ্তার আতঙ্কের মধ্যেও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেছেন বলে দাবি করেছেন তাঁর সহযোদ্ধারা। জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনেও ঢাকা মহানগর উত্তর এলাকায় সক্রিয় ভূমিকা রাখেন তিনি। ২০২৪ সালের ৭ জুলাই ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার পর সংগঠনটির সাংগঠনিক কার্যক্রমে যুক্ত হন আমিনুল ইসলাম। পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে কমিটিতে পরিবর্তন আনা হলেও আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন তিনি।সব শেষ তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় ছাত্রদল ও যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা এবং আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকার মধ্য দিয়ে তৈরি হয়েছে তাঁর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা। এদিকে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের নতুন নেতৃত্ব গঠন নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। গুরুত্বপূর্ণ এই সাংগঠনিক পদে যোগ্য, ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতৃত্ব চান তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। তাঁদের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক অবদানের যথাযথ মূল্যায়ন করে নতুন কমিটিতে আমিনুল ইসলামকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হবে। তবে নতুন কমিটিতে শেষ পর্যন্ত কারা নেতৃত্বে আসছেন, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। উল্লেখ্য, মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় গত ৩০ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় যুবদল। এরপর থেকেই নতুন কমিটির নেতৃত্ব নিয়ে সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।