আবহাওয়া

শীত আসছে, তবু উষ্ণতার আভাস: একই মৌসুমে শৈত্যপ্রবাহের পূর্বাভাস কেন?

এবারের শীতে আবহাওয়ার চিত্র হতে পারে বৈচিত্র্যময়

Admin নভেম্বর ৮, ২০২৬ 0

ক্যালেন্ডারের পাতায় নভেম্বর। ভোরের বাতাসে কোথাও কোথাও শীতের আগমনী বার্তা, আবার দিনের বেলায় রোদের তেজে এখনো গরমের অনুভূতি। বিশেষ করে দেশের উত্তরাঞ্চলে রাত ও ভোরের তাপমাত্রা কমতে শুরু করলেও রাজধানীসহ অন্য অনেক এলাকায় শীতের পরিচিত আমেজ এখনো পুরোপুরি দেখা যায়নি। এমন সময় শীতের পূর্বাভাসে এসেছে দুই ধরনের বার্তা—একদিকে কয়েক দফা শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা, অন্যদিকে সামগ্রিকভাবে তুলনামূলক উষ্ণ শীতের সম্ভাবনা।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ তিন মাসের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস বলছে, নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত দেশে চার থেকে ছয়টি মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে দুই থেকে তিনটি তীব্র শৈত্যপ্রবাহে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সময়ে বঙ্গোপসাগরে দুই থেকে চারটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে, যার মধ্যে এক থেকে দুটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, শৈত্যপ্রবাহের এমন পূর্বাভাসের মধ্যেও শীতকে তুলনামূলক উষ্ণ বলছেন আবহাওয়াবিদরা কেন?

শীতের পূর্বাভাসে দুই রকম ইঙ্গিত

 আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানিয়েছেন, এল নিনো পরিস্থিতি ও বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রভাবে এবারের শীত সামগ্রিকভাবে কিছুটা উষ্ণ হতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে দেশে শৈত্যপ্রবাহ থাকবে না। বরং শৈত্যপ্রবাহের সময়, স্থায়িত্ব ও তীব্রতা সীমিত থাকতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ডিসেম্বর মাসে এক থেকে দুটি মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। জানুয়ারিতে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহের পাশাপাশি এক থেকে দুটি তীব্র শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে। তীব্র শৈত্যপ্রবাহের সময় তাপমাত্রা ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসতে পারে।

অর্থাৎ, পুরো শীত মৌসুমের গড় পরিস্থিতি তুলনামূলক উষ্ণ হলেও নির্দিষ্ট কিছু সময়ে তীব্র ঠান্ডার মুখোমুখি হতে পারে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল।

উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে বাড়তে পারে শীতের অনুভূতি

শীতের প্রভাব দেশের সব অঞ্চলে একই সময়ে কিংবা একই মাত্রায় পড়ে না। আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস বলছে, রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় শৈত্যপ্রবাহের প্রভাব তুলনামূলক বেশি হতে পারে। এসব অঞ্চলে তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশেষ করে নদী অববাহিকায় রাত থেকে সকাল পর্যন্ত মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। দেশের অন্যান্য এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশার সম্ভাবনা রয়েছে। ঘন কুয়াশার কারণে দিনের তাপমাত্রা ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য কমে গেলে শীতের অনুভূতি আরও বাড়তে পারে।

রাজধানী ঢাকায় শীতের তীব্রতা উত্তরাঞ্চলের মতো হবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। কারণ শীতের প্রকোপ নির্ভর করবে পরবর্তী সময়ে তাপমাত্রা, বাতাসের প্রবাহ ও কুয়াশার পরিস্থিতির ওপর।

বৃষ্টির ঘাটতি, বদলে যাচ্ছে ঋতুর চেনা ছন্দ

শীতের আগমনের আগে বৃষ্টিপাতের পরিমাণও আবহাওয়ার আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত অক্টোবর মাসে দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় ৬৮ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত সামগ্রিকভাবে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা থাকলেও ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে বৃষ্টির পরিমাণ কমে আসতে পারে।

অন্যদিকে, অক্টোবর ও নভেম্বর বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ ও ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির অনুকূল সময়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত এক থেকে দুটি ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। তবে এটি সম্ভাব্য পূর্বাভাস, কোনো নির্দিষ্ট ঘূর্ণিঝড়ের আগাম ঘোষণা নয়।

শীতের প্রস্তুতি এখনই জরুরি

শীত শুধু তাপমাত্রার পরিবর্তন নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে মানুষের জীবনযাত্রা, কৃষি, যোগাযোগ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষ, শিশু এবং বয়স্কদের জন্য শৈত্যপ্রবাহ বাড়তি দুর্ভোগ তৈরি করতে পারে। নদী অববাহিকায় ঘন কুয়াশা সড়ক, নৌ ও আকাশপথের যোগাযোগেও প্রভাব ফেলতে পারে।

তাই শীতের প্রকোপ শুরু হওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে শীতবস্ত্রের ব্যবস্থা, কৃষি ও স্বাস্থ্য খাতে আগাম সতর্কতা এবং কুয়াশাপ্রবণ এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থায় সতর্কতা বাড়ানো প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে এবারের শীতের চিত্র একরৈখিক নয়। কোথাও শৈত্যপ্রবাহ, কোথাও কুয়াশা, আবার সামগ্রিক হিসাবে তুলনামূলক উষ্ণ আবহাওয়ার সম্ভাবনা। আবহাওয়ার এই বৈচিত্র্য মনে করিয়ে দিচ্ছে—শীতের প্রকৃত চেহারা বুঝতে শুধু মৌসুমের পূর্বাভাস নয়, নিয়মিত আবহাওয়ার আপডেটও গুরুত্বপূর্ণ।

Popular post
আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়, অনিয়ম করলে ব্যবস্থা: আইনমন্ত্রী

মানুষের প্রত্যাশার পরিপন্থি কোনো কাজ করলে তিনি যত কাছের মানুষই হোন না কেন, প্রধানমন্ত্রী তার বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘আমরা কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নই। সুতরাং এটা আমাদের সবার মাথায় রাখতে হবে।’ সোমবার (১৯ অক্টোবর) ঝিনাইদহে পিটিআই-এর একাডেমি-কাম-প্রশাসনিক ভবন উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। সাম্প্রতিক সময়ে সরকারদলীয় এক প্রতিমন্ত্রীর মাদকবিরোধী অভিযান ঘিরে বিতর্ক ও পদত্যাগের ঘোষণা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে- কেউ মানুষের প্রত্যাশার পরিপন্থি কোনো কাজ করলে তিনি যত কাছের মানুষই হোন না কেন, তার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নেবেন। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী তা প্রমাণ করেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। দুর্নীতি দমন ও অর্থ পাচার রোধে আইনি কাঠামো সংস্কারের পরিকল্পনা সম্পর্কে আইনমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এবং এর অধীন নীতিমালায় বড় ধরনের কোনো ত্রুটি দেখা যায়নি। মূল সমস্যা বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায়। এ কারণে আইন বাস্তবায়ন জোরদার করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগুলো সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়েও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা যথাসময়ে জানানো হবে। সব পরিকল্পনা আগেই প্রকাশ করলে পরিকল্পনার আর কিছু থাকে না। তবে ইতিবাচক পরিবর্তনের দিকে সরকার এগিয়ে যাবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে তাদের নির্বাচনে অংশ নিতে আইনি কোনো বাধা নেই। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা বিদ্যমান আইনি অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আইনি প্রক্রিয়ায় কোনো পরিবর্তন না আসা পর্যন্ত আগের বিধানই কার্যকর থাকবে। এর আগে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ এবং এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে আইনমন্ত্রী বলেন, সার ডিলার নিয়োগের পর এ বিষয়ে কোনো সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে তার কথা হয়নি। অনিয়ম হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট বিভাগ ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান তিনি। AITV/RONY

প্লেট তৈরিতে যেসব শর্ত মানতে হবে

বিআরটিএর নির্দেশনা অনুযায়ী, স্কুটারের সামনের নম্বর প্লেটের দৈর্ঘ্য হবে ২০০ মিলিমিটার এবং প্রস্থ ১০০ মিলিমিটার। স্কুটার ছাড়া অন্যান্য মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে দৈর্ঘ্য ২৮৫ মিলিমিটার ও প্রস্থ ৫০ মিলিমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। উভয় ধরনের নম্বর প্লেটে অক্ষর ও সংখ্যার উচ্চতা কমপক্ষে ২০ মিলিমিটার রাখতে হবে। স্কুটার ছাড়া অন্যান্য মোটরসাইকেলের নম্বর একটিমাত্র আনুভূমিক রেখায় প্রদর্শন করা যাবে। প্লেট তৈরিতে যেসব শর্ত মানতে হবে নম্বর প্লেট তৈরিতে স্টেইনলেস স্টিল অথবা অ্যালুমিনিয়াম ব্যবহার করতে হবে। এর পটভূমি হবে সাদা এবং রেজিস্ট্রেশন নম্বরের অক্ষর ও সংখ্যা কালো রঙে লিখতে হবে। পাশাপাশি বাংলা অক্ষর ও সংখ্যা ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নম্বর প্লেটে কোনো শোভাবর্ধক উপাদান বা অতিরিক্ত নকশা রাখা যাবে না। প্লেটের মাপ, রং, উপকরণ ও লেখার ধরন—সব ক্ষেত্রেই বিআরটিএর নির্ধারিত নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। বিআরটিএ জানিয়েছে, আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে মোটরসাইকেলের সামনের অংশে নম্বর প্লেট সংযোজন করে তা দৃশ্যমান রাখতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা পালন না করলে সংশ্লিষ্ট মালিকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

‘টুপটুপ’ রিসোর্টটি ফায়ার সার্ভিসের অনুমতি ছাড়াই নির্মাণ করা হয়েছিল।

  কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভের পাটুয়ারটেক সৈকতে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির শিকার ‘টুপটুপ’ রিসোর্টটি ফায়ার সার্ভিসের অনুমতি ছাড়াই নির্মাণ করা হয়েছিল। রিসোর্টটির অগ্নিনিরাপত্তার ছাড়পত্র ও ফায়ার লাইসেন্সও ছিল না। এমন তথ্য জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ। শনিবার তিনি জানান, জুন মাসে রিসোর্টটিকে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। এরপরও সেখানে অগ্নিনিরাপত্তার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল না। পর্যটন এলাকার অনেক ইকো রিসোর্ট প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক বলেন, মেরিন ড্রাইভের টুপটুপ রিসোর্টের নিচতলায় খাবার তৈরি করা হতো। সেখান থেকেই দুর্ঘটনাবশত আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রিসোর্টটি ফায়ার সার্ভিসের সংশ্লিষ্ট কার্যালয় থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার দূরে। তিনি আরও জানান, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এ পর্যন্ত ছয়টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পর্যটন এলাকায় এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হবে বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক। স্থানীয় পর্যটন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে অনুমোদনহীন রিসোর্টগুলোর বিষয়ে আলোচনা করা হবে বলেও জানান তিনি। কক্সবাজারের পর্যটন এলাকায় রিসোর্ট নির্মাণ ও পরিচালনায় অগ্নিনিরাপত্তা বিধি এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিশ্চিত করার বিষয়টি এ ঘটনায় নতুন করে সামনে এসেছে।

গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সরকার পরিবর্তনের পক্ষে প্রকাশ রাজ

নির্বাচন ও সাংবিধানিক পদ্ধতি অনুসরণ করে সরকার পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন ভারতের অভিনেতা ও সমাজকর্মী প্রকাশ রাজ। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক উপায়েই সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানোর চেষ্টা করা উচিত।   ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তরপ্রদেশ থেকে শুরু করে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন পর্যন্ত নির্বাচনী লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে এ মন্তব্য করেন প্রকাশ রাজ।   তিনি বলেন, “আমরা সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরাতে চাই এবং এ দেশে গণতান্ত্রিকভাবেই তা করব।”   বাংলাদেশ ও নেপালের রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে ভারতের পার্থক্য তুলে ধরে প্রকাশ রাজ বলেন, “আমরা নেপাল নই। আমরা বাংলাদেশ নই। আমাদের আম্বেদকর আছেন। আমাদের গান্ধী আছেন। আমাদের ভগৎ সিং আছেন। আমাদের সংবিধান আছে। আমাদের ভোট দেওয়ার অধিকার আছে।”   প্রকাশ রাজের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের কণ্ঠরোধ করতে কেন্দ্রীয় সরকার শক্তি প্রয়োগ করছে। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে সরকারের অনীহা সরকার পরিবর্তনের দাবিকে আরও জোরালো করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   তিনি বলেন, “আপনারা আমাদের এমন অবস্থায় ঠেলে দিয়েছেন, কারণ আপনারা আমাদের সঙ্গে কথা বলছেন না। আপনারা শক্তি প্রয়োগ করছেন।”   শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ ও নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবি জানানোকে নৈরাজ্য সৃষ্টির প্রচেষ্টা হিসেবে দেখার বিরোধিতা করেন এই অভিনেতা। তাঁর মতে, প্রশ্ন তোলা, প্রতিবাদ করা এবং ভোটাধিকার প্রয়োগ করা নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার।   প্রকাশ রাজ বলেন, “আমরা অস্ত্রধারী নই। আমাদের অস্ত্র হলো সংবিধান। আমাদের অস্ত্র হলো প্রতিবাদ করার অধিকার।”   সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুনে ৭ জন নিহতের ঘটনায় জামায়াতের শোক

১৭ অক্টোবর, শনিবার সকালে কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুনে ৭ জন নিহতের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও শোক প্রকাশ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতি দিয়েছেন।   বিবৃতিতে  বলেন, কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে ‘টুপটুপ রিসোর্টে’ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী সাতজনের মৃত্যু ও আরও বেশ কয়েকজনের নিখোঁজ থাকার ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক। আমি এ ঘটনায় গভীরভাবে উদ্বিগ্ন, ব্যথিত ও শোকাহত।   গোলাম পরওয়ার বলেন, পর্যটন নগরী কক্সবাজারের উখিয়ার এ ঘটনায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের দ্রুত উদ্ধার এবং আহতদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। আমি মহান আল্লাহর কাছে নিহত ব্যক্তিদের রুহের মাগফিরাত ও আহতদের সুস্থতা কামনা করছি। পাশাপাশি হতাহত ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।   তিনি আরও বলেন, শনিবার সকাল ৮টার দিকে দুর্ঘটনাকবলিত রিসোর্টের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা এবং সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট সব দায়িত্বশীল সংস্থাকে কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানাচ্ছি। একই সঙ্গে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রিসোর্টগুলোতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।     এ জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সব রিসোর্টের অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থাসহ সামগ্রিক নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ ও তদন্ত করা প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে কোনো পর্যটক কিংবা নাগরিককে আর ক্ষয়ক্ষতির মুখোমুখি হতে না হয়।  

আবহাওয়া

View more
এবারের শীতে আবহাওয়ার চিত্র হতে পারে বৈচিত্র্যময়

ক্যালেন্ডারের পাতায় নভেম্বর। ভোরের বাতাসে কোথাও কোথাও শীতের আগমনী বার্তা, আবার দিনের বেলায় রোদের তেজে এখনো গরমের অনুভূতি। বিশেষ করে দেশের উত্তরাঞ্চলে রাত ও ভোরের তাপমাত্রা কমতে শুরু করলেও রাজধানীসহ অন্য অনেক এলাকায় শীতের পরিচিত আমেজ এখনো পুরোপুরি দেখা যায়নি। এমন সময় শীতের পূর্বাভাসে এসেছে দুই ধরনের বার্তা—একদিকে কয়েক দফা শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা, অন্যদিকে সামগ্রিকভাবে তুলনামূলক উষ্ণ শীতের সম্ভাবনা। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ তিন মাসের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস বলছে, নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত দেশে চার থেকে ছয়টি মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে দুই থেকে তিনটি তীব্র শৈত্যপ্রবাহে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সময়ে বঙ্গোপসাগরে দুই থেকে চারটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে, যার মধ্যে এক থেকে দুটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, শৈত্যপ্রবাহের এমন পূর্বাভাসের মধ্যেও শীতকে তুলনামূলক উষ্ণ বলছেন আবহাওয়াবিদরা কেন? শীতের পূর্বাভাসে দুই রকম ইঙ্গিত  আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানিয়েছেন, এল নিনো পরিস্থিতি ও বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রভাবে এবারের শীত সামগ্রিকভাবে কিছুটা উষ্ণ হতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে দেশে শৈত্যপ্রবাহ থাকবে না। বরং শৈত্যপ্রবাহের সময়, স্থায়িত্ব ও তীব্রতা সীমিত থাকতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ডিসেম্বর মাসে এক থেকে দুটি মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। জানুয়ারিতে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহের পাশাপাশি এক থেকে দুটি তীব্র শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে। তীব্র শৈত্যপ্রবাহের সময় তাপমাত্রা ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসতে পারে। অর্থাৎ, পুরো শীত মৌসুমের গড় পরিস্থিতি তুলনামূলক উষ্ণ হলেও নির্দিষ্ট কিছু সময়ে তীব্র ঠান্ডার মুখোমুখি হতে পারে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল। উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে বাড়তে পারে শীতের অনুভূতি শীতের প্রভাব দেশের সব অঞ্চলে একই সময়ে কিংবা একই মাত্রায় পড়ে না। আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস বলছে, রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় শৈত্যপ্রবাহের প্রভাব তুলনামূলক বেশি হতে পারে। এসব অঞ্চলে তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে নদী অববাহিকায় রাত থেকে সকাল পর্যন্ত মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। দেশের অন্যান্য এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশার সম্ভাবনা রয়েছে। ঘন কুয়াশার কারণে দিনের তাপমাত্রা ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য কমে গেলে শীতের অনুভূতি আরও বাড়তে পারে। রাজধানী ঢাকায় শীতের তীব্রতা উত্তরাঞ্চলের মতো হবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। কারণ শীতের প্রকোপ নির্ভর করবে পরবর্তী সময়ে তাপমাত্রা, বাতাসের প্রবাহ ও কুয়াশার পরিস্থিতির ওপর। বৃষ্টির ঘাটতি, বদলে যাচ্ছে ঋতুর চেনা ছন্দ শীতের আগমনের আগে বৃষ্টিপাতের পরিমাণও আবহাওয়ার আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত অক্টোবর মাসে দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় ৬৮ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত সামগ্রিকভাবে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা থাকলেও ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে বৃষ্টির পরিমাণ কমে আসতে পারে। অন্যদিকে, অক্টোবর ও নভেম্বর বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ ও ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির অনুকূল সময়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত এক থেকে দুটি ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। তবে এটি সম্ভাব্য পূর্বাভাস, কোনো নির্দিষ্ট ঘূর্ণিঝড়ের আগাম ঘোষণা নয়। শীতের প্রস্তুতি এখনই জরুরি শীত শুধু তাপমাত্রার পরিবর্তন নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে মানুষের জীবনযাত্রা, কৃষি, যোগাযোগ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষ, শিশু এবং বয়স্কদের জন্য শৈত্যপ্রবাহ বাড়তি দুর্ভোগ তৈরি করতে পারে। নদী অববাহিকায় ঘন কুয়াশা সড়ক, নৌ ও আকাশপথের যোগাযোগেও প্রভাব ফেলতে পারে। তাই শীতের প্রকোপ শুরু হওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে শীতবস্ত্রের ব্যবস্থা, কৃষি ও স্বাস্থ্য খাতে আগাম সতর্কতা এবং কুয়াশাপ্রবণ এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থায় সতর্কতা বাড়ানো প্রয়োজন। সব মিলিয়ে এবারের শীতের চিত্র একরৈখিক নয়। কোথাও শৈত্যপ্রবাহ, কোথাও কুয়াশা, আবার সামগ্রিক হিসাবে তুলনামূলক উষ্ণ আবহাওয়ার সম্ভাবনা। আবহাওয়ার এই বৈচিত্র্য মনে করিয়ে দিচ্ছে—শীতের প্রকৃত চেহারা বুঝতে শুধু মৌসুমের পূর্বাভাস নয়, নিয়মিত আবহাওয়ার আপডেটও গুরুত্বপূর্ণ।

Admin নভেম্বর ৮, ২০২৬ 0

শীত মৌসুমে ৪ থেকে ৬টি শৈত্যপ্রবাহের পূর্বাভাস, ঘূর্ণিঝড় হতে পারে ১-২টি

সারাদেশে আপাতত শুষ্ক আবহাওয়া, রোববার থেকে বৃষ্টির সম্ভাবনা

0 Comments