প্রিয়তমা’ ও ‘রাজকুমার’ সিনেমা প্রযোজনা করে আলোচনায় আসেন আরশাদ আদনান। শাকিব খান অভিনীত সিনেমা দুটি করোনা-পরবর্তী সময়ে দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছিল। এবার ‘নসীব’ ও ‘মহব্বত’ নামে আরও দুটি সিনেমা নির্মাণ করতে যাচ্ছেন তিনি। আগামী বছরের দুই ঈদে সিনেমা দুটি মুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে নতুন সিনেমার প্রস্তুতির মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে নিয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ তুলেছেন এই প্রযোজক। রোববার দুপুরে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে কয়েকটি ছবি প্রকাশ করে এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানান তিনি।
আরশাদ আদনানের অভিযোগ, কয়েকটি ভুয়া ফেসবুক পেজ থেকে প্রচার করা হচ্ছে, তিনি বিএনপির সংস্কৃতিবিষয়ক কমিটিতে যোগ দিয়েছেন। তবে এ তথ্যকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন তিনি।
এ বিষয়ে আরশাদ আদনান বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। মূলত বিএফডিসিতে চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট ১৯টি সংগঠনের সভা শেষে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময়ের কিছু ছবি ব্যবহার করে এই মিথ্যাচার করা হচ্ছে। এসব বিষয়ে আমি একদমই কান দিই না। তবে মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর আগে আমার সঙ্গে কথা বলে নিলে তাদের জন্য ভালো হতো। আমি সঠিক তথ্যটি জানাতে পারতাম।’
নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে এই প্রযোজক আরও বলেন, ‘আমি সিনেমার মানুষ, সিনেমা নিয়েই থাকতে চাই। দেশের সিনেমার উন্নয়নে যা যা করা দরকার, নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী তা করে যাব।’
মানুষের প্রত্যাশার পরিপন্থি কোনো কাজ করলে তিনি যত কাছের মানুষই হোন না কেন, প্রধানমন্ত্রী তার বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘আমরা কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নই। সুতরাং এটা আমাদের সবার মাথায় রাখতে হবে।’ সোমবার (১৯ অক্টোবর) ঝিনাইদহে পিটিআই-এর একাডেমি-কাম-প্রশাসনিক ভবন উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। সাম্প্রতিক সময়ে সরকারদলীয় এক প্রতিমন্ত্রীর মাদকবিরোধী অভিযান ঘিরে বিতর্ক ও পদত্যাগের ঘোষণা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে- কেউ মানুষের প্রত্যাশার পরিপন্থি কোনো কাজ করলে তিনি যত কাছের মানুষই হোন না কেন, তার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নেবেন। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী তা প্রমাণ করেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। দুর্নীতি দমন ও অর্থ পাচার রোধে আইনি কাঠামো সংস্কারের পরিকল্পনা সম্পর্কে আইনমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এবং এর অধীন নীতিমালায় বড় ধরনের কোনো ত্রুটি দেখা যায়নি। মূল সমস্যা বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায়। এ কারণে আইন বাস্তবায়ন জোরদার করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগুলো সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়েও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা যথাসময়ে জানানো হবে। সব পরিকল্পনা আগেই প্রকাশ করলে পরিকল্পনার আর কিছু থাকে না। তবে ইতিবাচক পরিবর্তনের দিকে সরকার এগিয়ে যাবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে তাদের নির্বাচনে অংশ নিতে আইনি কোনো বাধা নেই। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা বিদ্যমান আইনি অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আইনি প্রক্রিয়ায় কোনো পরিবর্তন না আসা পর্যন্ত আগের বিধানই কার্যকর থাকবে। এর আগে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ এবং এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে আইনমন্ত্রী বলেন, সার ডিলার নিয়োগের পর এ বিষয়ে কোনো সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে তার কথা হয়নি। অনিয়ম হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট বিভাগ ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান তিনি। AITV/RONY
কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভের পাটুয়ারটেক সৈকতে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির শিকার ‘টুপটুপ’ রিসোর্টটি ফায়ার সার্ভিসের অনুমতি ছাড়াই নির্মাণ করা হয়েছিল। রিসোর্টটির অগ্নিনিরাপত্তার ছাড়পত্র ও ফায়ার লাইসেন্সও ছিল না। এমন তথ্য জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ। শনিবার তিনি জানান, জুন মাসে রিসোর্টটিকে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। এরপরও সেখানে অগ্নিনিরাপত্তার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল না। পর্যটন এলাকার অনেক ইকো রিসোর্ট প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক বলেন, মেরিন ড্রাইভের টুপটুপ রিসোর্টের নিচতলায় খাবার তৈরি করা হতো। সেখান থেকেই দুর্ঘটনাবশত আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রিসোর্টটি ফায়ার সার্ভিসের সংশ্লিষ্ট কার্যালয় থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার দূরে। তিনি আরও জানান, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এ পর্যন্ত ছয়টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পর্যটন এলাকায় এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হবে বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক। স্থানীয় পর্যটন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে অনুমোদনহীন রিসোর্টগুলোর বিষয়ে আলোচনা করা হবে বলেও জানান তিনি। কক্সবাজারের পর্যটন এলাকায় রিসোর্ট নির্মাণ ও পরিচালনায় অগ্নিনিরাপত্তা বিধি এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিশ্চিত করার বিষয়টি এ ঘটনায় নতুন করে সামনে এসেছে।
বিআরটিএর নির্দেশনা অনুযায়ী, স্কুটারের সামনের নম্বর প্লেটের দৈর্ঘ্য হবে ২০০ মিলিমিটার এবং প্রস্থ ১০০ মিলিমিটার। স্কুটার ছাড়া অন্যান্য মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে দৈর্ঘ্য ২৮৫ মিলিমিটার ও প্রস্থ ৫০ মিলিমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। উভয় ধরনের নম্বর প্লেটে অক্ষর ও সংখ্যার উচ্চতা কমপক্ষে ২০ মিলিমিটার রাখতে হবে। স্কুটার ছাড়া অন্যান্য মোটরসাইকেলের নম্বর একটিমাত্র আনুভূমিক রেখায় প্রদর্শন করা যাবে। প্লেট তৈরিতে যেসব শর্ত মানতে হবে নম্বর প্লেট তৈরিতে স্টেইনলেস স্টিল অথবা অ্যালুমিনিয়াম ব্যবহার করতে হবে। এর পটভূমি হবে সাদা এবং রেজিস্ট্রেশন নম্বরের অক্ষর ও সংখ্যা কালো রঙে লিখতে হবে। পাশাপাশি বাংলা অক্ষর ও সংখ্যা ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নম্বর প্লেটে কোনো শোভাবর্ধক উপাদান বা অতিরিক্ত নকশা রাখা যাবে না। প্লেটের মাপ, রং, উপকরণ ও লেখার ধরন—সব ক্ষেত্রেই বিআরটিএর নির্ধারিত নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। বিআরটিএ জানিয়েছে, আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে মোটরসাইকেলের সামনের অংশে নম্বর প্লেট সংযোজন করে তা দৃশ্যমান রাখতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা পালন না করলে সংশ্লিষ্ট মালিকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নির্বাচন ও সাংবিধানিক পদ্ধতি অনুসরণ করে সরকার পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন ভারতের অভিনেতা ও সমাজকর্মী প্রকাশ রাজ। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক উপায়েই সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানোর চেষ্টা করা উচিত। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তরপ্রদেশ থেকে শুরু করে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন পর্যন্ত নির্বাচনী লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে এ মন্তব্য করেন প্রকাশ রাজ। তিনি বলেন, “আমরা সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরাতে চাই এবং এ দেশে গণতান্ত্রিকভাবেই তা করব।” বাংলাদেশ ও নেপালের রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে ভারতের পার্থক্য তুলে ধরে প্রকাশ রাজ বলেন, “আমরা নেপাল নই। আমরা বাংলাদেশ নই। আমাদের আম্বেদকর আছেন। আমাদের গান্ধী আছেন। আমাদের ভগৎ সিং আছেন। আমাদের সংবিধান আছে। আমাদের ভোট দেওয়ার অধিকার আছে।” প্রকাশ রাজের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের কণ্ঠরোধ করতে কেন্দ্রীয় সরকার শক্তি প্রয়োগ করছে। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে সরকারের অনীহা সরকার পরিবর্তনের দাবিকে আরও জোরালো করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, “আপনারা আমাদের এমন অবস্থায় ঠেলে দিয়েছেন, কারণ আপনারা আমাদের সঙ্গে কথা বলছেন না। আপনারা শক্তি প্রয়োগ করছেন।” শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ ও নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবি জানানোকে নৈরাজ্য সৃষ্টির প্রচেষ্টা হিসেবে দেখার বিরোধিতা করেন এই অভিনেতা। তাঁর মতে, প্রশ্ন তোলা, প্রতিবাদ করা এবং ভোটাধিকার প্রয়োগ করা নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার। প্রকাশ রাজ বলেন, “আমরা অস্ত্রধারী নই। আমাদের অস্ত্র হলো সংবিধান। আমাদের অস্ত্র হলো প্রতিবাদ করার অধিকার।” সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
১৭ অক্টোবর, শনিবার সকালে কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুনে ৭ জন নিহতের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও শোক প্রকাশ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতিতে বলেন, কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে ‘টুপটুপ রিসোর্টে’ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী সাতজনের মৃত্যু ও আরও বেশ কয়েকজনের নিখোঁজ থাকার ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক। আমি এ ঘটনায় গভীরভাবে উদ্বিগ্ন, ব্যথিত ও শোকাহত। গোলাম পরওয়ার বলেন, পর্যটন নগরী কক্সবাজারের উখিয়ার এ ঘটনায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের দ্রুত উদ্ধার এবং আহতদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। আমি মহান আল্লাহর কাছে নিহত ব্যক্তিদের রুহের মাগফিরাত ও আহতদের সুস্থতা কামনা করছি। পাশাপাশি হতাহত ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। তিনি আরও বলেন, শনিবার সকাল ৮টার দিকে দুর্ঘটনাকবলিত রিসোর্টের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা এবং সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট সব দায়িত্বশীল সংস্থাকে কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানাচ্ছি। একই সঙ্গে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রিসোর্টগুলোতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। এ জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সব রিসোর্টের অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থাসহ সামগ্রিক নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ ও তদন্ত করা প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে কোনো পর্যটক কিংবা নাগরিককে আর ক্ষয়ক্ষতির মুখোমুখি হতে না হয়।
মানহানির অভিযোগ এনে অভিনেত্রী তানজিন নাহার তিশার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ফ্যাশান ডিজাইনার সানায়া আনাম ওয়াফিকাহ চৌধুরী। আজ রোববার ( ৮ নভেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দিনের আদালতে বাদী এই মামলা করেন। এদিন বিচারক মামলাটি বাদীর জবানবন্দি শুনে পুলিশ বুরো অব ইনভেস্টিগেশন(পিবিআই)কে আগামী ২১ জানুয়ারী তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েয়েছেন। এ বিষয়ে বাদীর আইনজীবী শুভ্র সিনহা রায় জানান। নথি থেকে জানা গেছে, বাদী ঢাকার সিএমএম আদালত ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসামি তানজিন নাহার তিশার বিরুদ্ধে দুটি পৃথক মামলা দায়ের করেন। বাদী মামলা গুলো দায়ের করার পরে আসামি প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে বিগত ২০২৬ সালের ২৭ অক্টোবর তাহার ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজ Tanjin Tisha নামক পেইজ থেকে বিভিন্ন আপত্তিকর ছবি ও ভুল তথ্য ছড়াতে থাকেন। ইহা ছাড়াও আসামি বাদীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন তথ্য দেশের গণমাধ্যমকে ভুলভাবে উপস্থাপন করতে থাকেন। আরজিতে আরও বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ৭ নভেম্বর আসামি ফেসবুক ম্যাসেঞ্জার থেকে বাদীর ম্যাসেঞ্জারে কল দিয়ে ভাইরালের হুমকি দেন। যা বাদীর কাছে সংরক্ষিত আছে। সেখানে আসামি বাদীকে হুমকি বলেন, 'ফেমাস হইলে বইলো, আমি তোমার ছবি আপলোড করে দিবো নে।' আরও বলা হয়েছে, আসামি তারই ধারাবাহিকতায় বিগত ২৭ অক্টোবর তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজ Tanjin Tishaনামক পেইজ থেকে বিভিন্ন আপত্তিকর ছবি ও ভুল তথ্য ছড়ান এবং বাদীর ছবি ফেইসবুকে আপলোড দিয়ে সম্মান হানির ঘটনায় লিপ্ত থাকেন। সেখানে আসামি বাদী একটি নারীকে চুম্বন করছেন তার ছবি বাদীকে না জানিয়ে তাহার অজান্তে প্রকাশ করেন। এছাড়া সেখানে দুইজন নাবালক শিশুর ছবিও আসামি প্রকাশ করেন। এছাড়া, বাদীর বিষয়ে বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য প্রকাশ করেন। 'সেখানে এ দুজন এক কেন? এই দুই বোনের মিলিত হয়ে এত ঘৃণা কেন? একজনকে তো মামলা আগে দেখিওনি। এমন তথ্য প্রকাশ করেন।' আরজিতে আরও জানা গেছে, এ ঘটনার বিষয়ে বাদী তার পল্লবীস্থ বাসায় বসে বিগত ২৭ অক্টোবর রাত ১১ ঘটিকায় তাহার ব্যবহৃত মোবাইলের ফেইসবুক ব্যবহারের সময় জানতে পান। এছাড়া বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেখতে পারেন। অতপর বাদী আসামিকে তাহার নিয়োজিত আইনজীবীর মাধ্যমে বিগত ২৮ অক্টোবর তারিখে রেজিস্ট্রি ডাকযোগে লিগ্যাল নোটিশ পাঠান। 'লিগ্যাল নোটিশের মাধ্যমে বলা হয়, নোটিশ প্রাপ্তির দুইদিনের মধ্যে যেন তাহা অপসারন করা হয় এবং বাদী তাহার অনুরোধ করেন'। কিন্তু লিগ্যাল নোটিশ পাঠানোর দুইদিনের মধ্যেও আসামি তাহা অপসারণ করেনি এবং অন্যদিকে সাক্ষীদের কাছে বাদীর বিষয়ে আসামি বিভিন্ন অদ্ভুট কথা বলে বেড়ান। আসামি সাক্ষীদের কাছে বলেন, আসামির ফেইম ব্যবহার করে ভাইরাল হওয়ার নেশায় বাদী মামলা করেছেন বলে কটূক্তি করেন'। বরংচ বাদী একজন জনপ্রিয় ফ্যাশান ডিজাইনার। তিনি দেশে-বিদেশে অসংখ্য পুরষ্কার প্রাপ্তা। আসামি নিজেকে জনপ্রিয় দাবী করে, বাদীর বিরুদ্ধে কুরুচীপূর্ণ বক্তব্য সর্বত্র দিয়ে যাচ্ছেন। আসামির মানসম্মানের ক্ষতি করছেন। আরজিতে আরও বলা হয়েছে, আসামি বাদী ও অন্য কারও ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে কোন ধরনের অনুমতি গ্রহণ করেন নাই। এবং বাদী আসামিকে আইনগতভাবে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানোর পরেও তিনি উক্ত ছবি সরান নাই এবং কটূক্তি, মানহানি ও আরও ছবি প্রকাশের হুমকি প্রদান করিয়াছেন। তাই বাদী বাধ্য হয়ে আসামির বিরুদ্ধে অত্র মামলা দায়ের করলেন। এ বিষয়ে বাদী সানায়া আনাম ওয়াফিকাহ চৌধুরী বলেন, আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি আবেদন করা হয়েছিলো।
বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র দৃশ্যধারণ দেখতে গিয়ে জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় দুই শতাধিক মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে গোলাম রতন (৪৭) নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (৭ নভেম্বর) সন্ধ্যা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত উপজেলার ঐতিহাসিক নান্দাইলদীঘি পাড়ে অবস্থিত নান্দাইলদীঘি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠানটির দৃশ্যধারণ করা হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হানিফ সংকেতের পরিকল্পনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানটির দৃশ্যধারণ দেখতে সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শকরা আসতে শুরু করেন। এতে প্রায় ১০ হাজার মানুষের সমাগম ঘটে। অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে জেলা প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে নেওয়া হয় ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা। দায়িত্ব পালন করেন প্রায় আড়াই শতাধিক পুলিশ সদস্য, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য, ৫০ জন স্কাউট সদস্য এবং শতাধিক স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক। তবে বিপুলসংখ্যক দর্শকের ভিড়ের সুযোগ নিয়ে সক্রিয় হয়ে ওঠে চোর ও পকেটমার চক্র। অনুষ্ঠান চলাকালে দর্শকদের পকেট ও ব্যাগ থেকে একের পর এক মোবাইল ফোন চুরির ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। অনুষ্ঠান শেষে নিজেদের মোবাইল ফোন খুঁজে না পেয়ে চুরির বিষয়টি বুঝতে পারেন অনেকে। পরে ভুক্তভোগীদের একটি অংশ কালাই থানায় গিয়ে মৌখিক অভিযোগ করেন। এ সময় সন্দেহভাজন হিসেবে গোলাম রতন নামে একজনকে আটক করা হয়। তিনি জয়পুরহাট সদর উপজেলার ভাদসা এলাকার গোলাম রব্বানীর ছেলে। কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) ইমায়েদুল জাহেদী জানান, অনুষ্ঠান শেষে ৭০ থেকে ৮০ জন ভুক্তভোগী সরাসরি থানায় এসে মোবাইল ফোন চুরির মৌখিক অভিযোগ করেছেন। প্রাথমিকভাবে চুরি যাওয়া মোবাইল ফোনের সংখ্যা ২০০টির বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শুটিং সেটে মারধরের অভিযোগ ঘিরে অভিনেত্রী তানজিন তিশা ও সামিয়া অথৈর মধ্যকার বিরোধ নতুন মোড় নিয়েছে। দুই অভিনেত্রীর সদস্যপদ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে অভিনয়শিল্পী সংঘ বাংলাদেশ। এ সিদ্ধান্তের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন তানজিন তিশা। একই সঙ্গে গত এক বছরে তাকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিভিন্ন বিতর্ক নিয়েও কথা বলেছেন এই অভিনেত্রী। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাতে নিজের ফেসবুক পেজ থেকে প্রায় ২৫ মিনিটের লাইভে অংশ নেন তিশা। এ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা প্রচারণার কারণে শিল্পীদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিশা বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা প্রচারণা শিল্পীদের সমালোচিত করে তোলে। যারা কাজের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে চান, তাদের জন্য এ ধরনের পরিস্থিতি কঠিন হয়ে পড়ে। কাজ করতে গিয়ে সহশিল্পীদের সঙ্গে মতের অমিল কিংবা বিরোধ হতে পারে। তবে সেটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্যে অভিযোগ তুলে কারও ক্যারিয়ারের ক্ষতি করা উচিত নয় বলে মনে করেন তিনি। গত এক বছরে তাকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিভিন্ন বিতর্ক প্রসঙ্গেও কথা বলেন তিশা। আলোচিত ‘শাড়ি-কাণ্ড’-এর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘গত এক বছরে অনেক কিছু দেখলাম, শাড়ি-কাণ্ডও দেখলাম। আজ হোক বা কাল, সবকিছু সবার সামনে আসবে। আমি শুধু সেই দিনের অপেক্ষায় আছি।’ সামিয়া অথৈর সঙ্গে শুটিং সেটে ঘটে যাওয়া ঘটনা প্রসঙ্গে তিশা জানান, ‘পুতুলের বিয়ে’ নাটকের শুটিংয়ে তাদের মধ্যে যে বিরোধ হয়েছিল, সেটির প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন সেটে উপস্থিত অন্য শিল্পী ও কলাকুশলীরা। নাটকটিতে মানসিক প্রতিবন্ধী এক নারীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিশা। তার দাবি, সংশ্লিষ্ট দৃশ্যটি দেখলেই সেদিনের ঘটনা সম্পর্কে দর্শকেরা ধারণা পাবেন। দৃশ্যটি সম্পাদনা করে পরিবর্তন করা হয়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি। নির্যাতনের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিশার বক্তব্য, নাটকের দৃশ্য দেখলেই কে কীভাবে অভিনয় করেছেন এবং সেখানে কী ঘটেছিল, তা বোঝা যাবে। অভিনয়শিল্পী সংঘের সালিশ বৈঠকের সিদ্ধান্ত নিয়েও লাইভে কথা বলেন তিশা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বৈঠকে দুই অভিনেত্রীকে ক্ষমা চেয়ে বিবৃতি দেওয়ার পাশাপাশি একটি ভিডিও বার্তা পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়নি। তিশা বলেন, সামিয়া অথৈ ভিডিও বার্তা জমা দেননি। তিনিও ব্যক্তিগত কারণে তা দিতে পারেননি। এরপর নোটিশ অমান্যের অভিযোগে তাকে সদস্যপদ স্থগিতের চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানান এই অভিনেত্রী। উল্লেখ্য, গত ৩ মার্চ মানিকগঞ্জে পরিচালক রাফাত মজুমদারের একটি নাটকের শুটিং চলাকালে তানজিন তিশা ও সামিয়া অথৈর মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। ওই দিন ফেসবুক লাইভে এসে তিশার বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ তোলেন সামিয়া অথৈ। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে তিশার দাবি ছিল, নাটকের চিত্রনাট্য ও চরিত্রের প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট দৃশ্য ধারণ করা হয়েছিল। দুই অভিনেত্রীর পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও অভিযোগের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া বিরোধ এবার গড়িয়েছে অভিনয়শিল্পী সংঘের সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত পর্যন্ত। সদস্যপদ স্থগিতের পর তিশার এই লাইভ বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।