দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে ডলারের চাহিদা বাড়ায় টাকার বিপরীতে মার্কিন মুদ্রাটির দাম ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। ৩ নভেম্বর কিছু বাণিজ্যিক ব্যাংক প্রবাসী আয় সংগ্রহে প্রতি ডলার সর্বোচ্চ ১২৪ টাকা ৭০ পয়সা পর্যন্ত দিয়েছে।
দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের ৪ নভেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই দিন বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভ থেকে ১০০ মিলিয়ন ডলার বিক্রির জন্য নিলাম ডাকলেও কাঙ্ক্ষিত দামে ক্রেতা না পাওয়ায় তা বিক্রি করেনি। তবে পরদিন, ৪ নভেম্বর, কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিলামের মাধ্যমে ১২০ মিলিয়ন ডলার বিক্রি করে। প্রতি ডলারের দাম ছিল ১২৪ টাকা ৩০ থেকে ৩৫ পয়সা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ৪ নভেম্বর বিকেল ৫টা পর্যন্ত ডলারের স্পট রেফারেন্স রেট ছিল ১২৪ টাকা ৫০ পয়সা ৮০ পয়সার সমান; ৫ নভেম্বর তা বেড়ে দাঁড়ায় ১২৪ টাকা ৬২ পয়সা ৪৮ পয়সা।
ব্যাংকারদের মতে, সরকারি আমদানি ব্যয়, বিশেষ করে জ্বালানি খাতের বড় অঙ্কের এলসি পরিশোধের কারণে ডলারের চাহিদা বেড়েছে। অন্যদিকে রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় প্রত্যাশা অনুযায়ী না বাড়ায় বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে।
মানুষের প্রত্যাশার পরিপন্থি কোনো কাজ করলে তিনি যত কাছের মানুষই হোন না কেন, প্রধানমন্ত্রী তার বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘আমরা কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নই। সুতরাং এটা আমাদের সবার মাথায় রাখতে হবে।’ সোমবার (১৯ অক্টোবর) ঝিনাইদহে পিটিআই-এর একাডেমি-কাম-প্রশাসনিক ভবন উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। সাম্প্রতিক সময়ে সরকারদলীয় এক প্রতিমন্ত্রীর মাদকবিরোধী অভিযান ঘিরে বিতর্ক ও পদত্যাগের ঘোষণা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে- কেউ মানুষের প্রত্যাশার পরিপন্থি কোনো কাজ করলে তিনি যত কাছের মানুষই হোন না কেন, তার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নেবেন। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী তা প্রমাণ করেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। দুর্নীতি দমন ও অর্থ পাচার রোধে আইনি কাঠামো সংস্কারের পরিকল্পনা সম্পর্কে আইনমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এবং এর অধীন নীতিমালায় বড় ধরনের কোনো ত্রুটি দেখা যায়নি। মূল সমস্যা বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায়। এ কারণে আইন বাস্তবায়ন জোরদার করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগুলো সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়েও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা যথাসময়ে জানানো হবে। সব পরিকল্পনা আগেই প্রকাশ করলে পরিকল্পনার আর কিছু থাকে না। তবে ইতিবাচক পরিবর্তনের দিকে সরকার এগিয়ে যাবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে তাদের নির্বাচনে অংশ নিতে আইনি কোনো বাধা নেই। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা বিদ্যমান আইনি অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আইনি প্রক্রিয়ায় কোনো পরিবর্তন না আসা পর্যন্ত আগের বিধানই কার্যকর থাকবে। এর আগে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ এবং এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে আইনমন্ত্রী বলেন, সার ডিলার নিয়োগের পর এ বিষয়ে কোনো সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে তার কথা হয়নি। অনিয়ম হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট বিভাগ ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান তিনি। AITV/RONY
বিআরটিএর নির্দেশনা অনুযায়ী, স্কুটারের সামনের নম্বর প্লেটের দৈর্ঘ্য হবে ২০০ মিলিমিটার এবং প্রস্থ ১০০ মিলিমিটার। স্কুটার ছাড়া অন্যান্য মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে দৈর্ঘ্য ২৮৫ মিলিমিটার ও প্রস্থ ৫০ মিলিমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। উভয় ধরনের নম্বর প্লেটে অক্ষর ও সংখ্যার উচ্চতা কমপক্ষে ২০ মিলিমিটার রাখতে হবে। স্কুটার ছাড়া অন্যান্য মোটরসাইকেলের নম্বর একটিমাত্র আনুভূমিক রেখায় প্রদর্শন করা যাবে। প্লেট তৈরিতে যেসব শর্ত মানতে হবে নম্বর প্লেট তৈরিতে স্টেইনলেস স্টিল অথবা অ্যালুমিনিয়াম ব্যবহার করতে হবে। এর পটভূমি হবে সাদা এবং রেজিস্ট্রেশন নম্বরের অক্ষর ও সংখ্যা কালো রঙে লিখতে হবে। পাশাপাশি বাংলা অক্ষর ও সংখ্যা ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নম্বর প্লেটে কোনো শোভাবর্ধক উপাদান বা অতিরিক্ত নকশা রাখা যাবে না। প্লেটের মাপ, রং, উপকরণ ও লেখার ধরন—সব ক্ষেত্রেই বিআরটিএর নির্ধারিত নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। বিআরটিএ জানিয়েছে, আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে মোটরসাইকেলের সামনের অংশে নম্বর প্লেট সংযোজন করে তা দৃশ্যমান রাখতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা পালন না করলে সংশ্লিষ্ট মালিকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভের পাটুয়ারটেক সৈকতে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির শিকার ‘টুপটুপ’ রিসোর্টটি ফায়ার সার্ভিসের অনুমতি ছাড়াই নির্মাণ করা হয়েছিল। রিসোর্টটির অগ্নিনিরাপত্তার ছাড়পত্র ও ফায়ার লাইসেন্সও ছিল না। এমন তথ্য জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ। শনিবার তিনি জানান, জুন মাসে রিসোর্টটিকে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। এরপরও সেখানে অগ্নিনিরাপত্তার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল না। পর্যটন এলাকার অনেক ইকো রিসোর্ট প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক বলেন, মেরিন ড্রাইভের টুপটুপ রিসোর্টের নিচতলায় খাবার তৈরি করা হতো। সেখান থেকেই দুর্ঘটনাবশত আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রিসোর্টটি ফায়ার সার্ভিসের সংশ্লিষ্ট কার্যালয় থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার দূরে। তিনি আরও জানান, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এ পর্যন্ত ছয়টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পর্যটন এলাকায় এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হবে বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক। স্থানীয় পর্যটন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে অনুমোদনহীন রিসোর্টগুলোর বিষয়ে আলোচনা করা হবে বলেও জানান তিনি। কক্সবাজারের পর্যটন এলাকায় রিসোর্ট নির্মাণ ও পরিচালনায় অগ্নিনিরাপত্তা বিধি এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিশ্চিত করার বিষয়টি এ ঘটনায় নতুন করে সামনে এসেছে।
নির্বাচন ও সাংবিধানিক পদ্ধতি অনুসরণ করে সরকার পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন ভারতের অভিনেতা ও সমাজকর্মী প্রকাশ রাজ। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক উপায়েই সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানোর চেষ্টা করা উচিত। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তরপ্রদেশ থেকে শুরু করে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন পর্যন্ত নির্বাচনী লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে এ মন্তব্য করেন প্রকাশ রাজ। তিনি বলেন, “আমরা সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরাতে চাই এবং এ দেশে গণতান্ত্রিকভাবেই তা করব।” বাংলাদেশ ও নেপালের রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে ভারতের পার্থক্য তুলে ধরে প্রকাশ রাজ বলেন, “আমরা নেপাল নই। আমরা বাংলাদেশ নই। আমাদের আম্বেদকর আছেন। আমাদের গান্ধী আছেন। আমাদের ভগৎ সিং আছেন। আমাদের সংবিধান আছে। আমাদের ভোট দেওয়ার অধিকার আছে।” প্রকাশ রাজের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের কণ্ঠরোধ করতে কেন্দ্রীয় সরকার শক্তি প্রয়োগ করছে। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে সরকারের অনীহা সরকার পরিবর্তনের দাবিকে আরও জোরালো করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, “আপনারা আমাদের এমন অবস্থায় ঠেলে দিয়েছেন, কারণ আপনারা আমাদের সঙ্গে কথা বলছেন না। আপনারা শক্তি প্রয়োগ করছেন।” শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ ও নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবি জানানোকে নৈরাজ্য সৃষ্টির প্রচেষ্টা হিসেবে দেখার বিরোধিতা করেন এই অভিনেতা। তাঁর মতে, প্রশ্ন তোলা, প্রতিবাদ করা এবং ভোটাধিকার প্রয়োগ করা নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার। প্রকাশ রাজ বলেন, “আমরা অস্ত্রধারী নই। আমাদের অস্ত্র হলো সংবিধান। আমাদের অস্ত্র হলো প্রতিবাদ করার অধিকার।” সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
১৭ অক্টোবর, শনিবার সকালে কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুনে ৭ জন নিহতের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও শোক প্রকাশ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতিতে বলেন, কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে ‘টুপটুপ রিসোর্টে’ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী সাতজনের মৃত্যু ও আরও বেশ কয়েকজনের নিখোঁজ থাকার ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক। আমি এ ঘটনায় গভীরভাবে উদ্বিগ্ন, ব্যথিত ও শোকাহত। গোলাম পরওয়ার বলেন, পর্যটন নগরী কক্সবাজারের উখিয়ার এ ঘটনায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের দ্রুত উদ্ধার এবং আহতদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। আমি মহান আল্লাহর কাছে নিহত ব্যক্তিদের রুহের মাগফিরাত ও আহতদের সুস্থতা কামনা করছি। পাশাপাশি হতাহত ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। তিনি আরও বলেন, শনিবার সকাল ৮টার দিকে দুর্ঘটনাকবলিত রিসোর্টের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা এবং সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট সব দায়িত্বশীল সংস্থাকে কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানাচ্ছি। একই সঙ্গে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রিসোর্টগুলোতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। এ জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সব রিসোর্টের অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থাসহ সামগ্রিক নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ ও তদন্ত করা প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে কোনো পর্যটক কিংবা নাগরিককে আর ক্ষয়ক্ষতির মুখোমুখি হতে না হয়।
তৈরি পোশাকশ্রমিকদের নতুন ন্যূনতম মজুরি কাঠামো আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর করার বিষয়ে একমত হয়েছেন মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিরা। নতুন কাঠামো অনুযায়ী ডিসেম্বর মাসের বর্ধিত বেতন জানুয়ারিতে পরিশোধ করা হবে। বুধবার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় নিম্নতম মজুরি বোর্ডের কার্যালয়ে বোর্ডের প্রথম সভা শেষে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান শ্রমিক প্রতিনিধি ও মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরা। সভায় নতুন মজুরি কাঠামো ১ ডিসেম্বর থেকে কার্যকরের বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়। তবে নতুন কাঠামোয় শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি কত নির্ধারণ করা হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। শ্রমিক প্রতিনিধি বাবুল আখতার জানান, ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি নির্ধারণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। পরবর্তী সভায় শ্রমিকপক্ষ তাদের লিখিত প্রস্তাব জমা দেবে। বর্তমানে পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা। শ্রমিকদের দাবি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে তা বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করা হোক। উল্লেখ্য, শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণে সরকার ১ নভেম্বর ছয় সদস্যের নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করে।
পোশাক শ্রমিকদের নতুন বেতন নির্ধারণে ছয় সদস্যের মজুরি বোর্ড ঘোষণা করেছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। রোববার (১ নভেম্বর) সচিবালয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এ ঘোষণা দেন। বোর্ডে নিরপেক্ষ সদস্য হিসেবে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের যুগ্ম মহাসচিব আসিফ আইয়ুব এবং বিজিএমইএর পরিচালক এবিএম সামছুদ্দিন। শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইন এবং বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার। ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের লাগাতার আন্দোলনের মধ্যেই এ মজুরি বোর্ড গঠন করল সরকার। আজই এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন বা গেজেট প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন শ্রমমন্ত্রী। এর আগে শনিবার মালিক, শ্রমিক ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে চার ঘণ্টার বৈঠক শেষে রোববার মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দেন তিনি। এদিকে, একই দাবিতে রোববারও রাজধানীর মিরপুর ও গাজীপুরে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন পোশাকশ্রমিকেরা।
জাপানভিত্তিক প্রযুক্তি ও প্ল্যাটফর্ম প্রকৌশল প্রতিষ্ঠান উইক করপোরেশন (উইক) এবং গ্রামীণ গ্রুপ বাংলাদেশে করপোরেট বিজ্ঞাপন, প্রয়োজনীয় সেবা ও অর্থনৈতিক সেবার মধ্যে সংযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে যৌথ উদ্যেগে ‘গ্রামীণ-উইক’ নামে একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছে। গতকাল বুধবার টোকিওতে অনুষ্ঠিত জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরামে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন (জেট্রো) এবং জাপান-বাংলাদেশ কমিটি ফর কমার্শিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন যৌথভাবে এ ফোরামের আয়োজন করে। এতে জাপানে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস সহযোগিতা করেছে। ২০২৬ সালের জুনে উইক ও গ্রামীণ গ্রুপের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) ধারাবাহিকতায় যৌথ উদ্যোগটির পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হয়েছে। নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস এবং ইয়োশিমোতো কোজিওর সাবেক চেয়ারম্যান হিরোশি ওসাকি প্রতিষ্ঠানটির উপদেষ্টা পর্ষদে যুক্ত হয়েছেন। পর্ষদ গঠনের মাধ্যমে যৌথ উদ্যোগটি এখন পূর্ণাঙ্গ সেবা উন্নয়ন এবং স্থানীয় কার্যক্রম প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে। ২০২৭ সালের মধ্যে ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরুর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গ্রামীণ-উইক একটি সামাজিক ব্যবসা হিসেবে পরিচালিত হবে। ডিজিটাল প্রযুক্তি ও ‘পজিটিভ ইমপ্যাক্ট অ্যাডভার্টাইজমেন্ট’-এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি করপোরেট বিজ্ঞাপন কার্যক্রমের সঙ্গে মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং সামাজিক সমস্যা সমাধানের উদ্যোগকে যুক্ত করবে। বাংলাদেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্যান্য সামাজিক সেবা খাতে বড় বড় প্রতিষ্ঠান, সরকারি সংস্থা ও সংগঠনের সঙ্গে সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা চলছে। বিস্তৃত অংশীদারত্বের মাধ্যমে ব্যবসায়িক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে যৌথ উদ্যোগটির। গ্রামীণ-উইক নিজস্ব স্মার্টফোন অ্যাপের মাধ্যমে পজিটিভ ইমপ্যাক্ট অ্যাডভার্টাইজমেন্ট প্রচার করবে। বিজ্ঞাপন দেখার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা পয়েন্ট অর্জন করবেন, যা কোম্পানিগুলোর বিজ্ঞাপন ব্যয়ের একটি অংশ থেকে প্রদান করা হবে। অর্জিত এসব পয়েন্ট ব্যবহার করে ব্যবহারকারীরা স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসহ দৈনন্দিন বিভিন্ন পণ্য ও সেবা পাওয়ার সুযোগ বাড়াতে পারবেন। অ্যাপটিতে বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ ও চাকরির সুযোগসংক্রান্ত তথ্য প্রদানের ব্যবস্থাও চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। চাকরিপ্রত্যাশীদের জনশক্তি প্রেরণকারী সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত করার মাধ্যমে এসব সুবিধা বাংলাদেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা অর্জনে সহায়তা করবে। নতুন প্রশাসনের নীতিগত অগ্রাধিকার এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর গুরুত্বারোপ করা উন্নয়ন চ্যালেঞ্জগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গ্রামীণ-উইক পাঁচটি ক্ষেত্রকে অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এগুলো হলো: যুব কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা সৃষ্টি, নারীর অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ ও ক্ষমতায়ন, দারিদ্র্য হ্রাস ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ মোকাবিলা। উইক করপোরেশন জাপানের একটি সফটওয়্যার ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, যা এন্টারপ্রাইজ প্ল্যাটফর্ম এবং ডিজিটাল সিস্টেম তৈরি করে।